দালালির নয়, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বন্ধুত্বের : আমু


প্রকাশিত: ১২:৫০ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৫

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বের উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, আজকে যারা ভারতের সঙ্গে দালালির সম্পর্কের কথা বলে, তারা মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আঘাত করে। মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক শক্তিকে আঘাত করার মধ্য দিয়ে এদেশকে নব্য পাকিস্তানে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চলছে।

বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার যে অপচেষ্টা শুরু হয়েছিল, বর্তমানে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা আবার শুরু হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর বিসিআইসি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফরহাদ উদ্দিন ও সুষেণ চন্দ্র দাস, বিসিআইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল, বিসিক চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন খান বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের। এদেশের জনগণের স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সূচিত হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণ মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দানসহ ১১ হাজার ভারতীয় সৈন্য বাঙালি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়েছিল। ভারতের সঙ্গে দালালির সম্পর্কের কোনো প্রশ্নই আসে না।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এদেশে যা কিছু দৃষ্টিনন্দন অর্জন, তার সবই বঙ্গবন্ধুর অবদান। ১৯৫৬ সালে বঙ্গবন্ধু শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম ও দুর্নীতি দমন বিভাগের মন্ত্রী থাকাকালে বাংলাদেশে শিল্পায়নসহ ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের সূচনা করেন। পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ যত অগ্রগতি অর্জন করেছে, তাও আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান।

তিনি উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার পাশাপাশি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এখনো এ লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। দেশব্যাপী পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তারা এক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেন।

বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ পরিশোধ ও স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করা যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এসএ/বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।