নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দেবে না সংসদ সচিবালয়


প্রকাশিত: ০৪:৪৭ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৫

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দিতে চায় না সংসদ সচিবালয়। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশ তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় মর্মে চিঠিও পাঠিয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সেকেন্দার হায়াত রিজভী স্বাক্ষরিত ওই চিঠির একটি অনুলিপিতে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৯ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের নিজস্ব সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত। এর নিজস্ব আইনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ নিয়োগপ্রাপ্ত। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় সরকারের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়গুলোর মতো নয় বিধায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা পাঠানো এ কার্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে না।’

অথচ আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রের যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের কাজে ইসিকে সহায়তা দিতে বাধ্য। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিধিমালার প্রথম অধ্যায়ের বিধি ৩ এর ২ উপবিধিতে বলা আছে- ‘কমিশন এই বিধিমালার অধীনে উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদান করিবার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের যেকোনো ব্যক্তি বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে নির্দেশিত হইলে, উক্ত ব্যক্তি বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্দেশিত দায়িত্ব পালন বা উক্তরুপ সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্যথাকিবে।

গত ৪ মার্চ ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুতের জন্য কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেয়। সেই চিঠির জবাবে সংসদ সচিবালয় ৩০ মার্চ জবাব পাঠায়, তাদের জন্য ইসির ওই অনুরোধ প্রযোজ্য নয়। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ নির্বাচন কমিশন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার একজন জ্যৈষ্ঠ সহকারী সচিব এ বিষয়ে বলেন, ‘সংসদ সচিবালয়ের এ ধরনের জবাব কাম্য নয়। তারা বলেছে কর্মকর্তার তালিকা চেয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছে ইসি, কিন্তু ইসি কখনো অনুরোধ করে না, নির্দেশ দেয়। এছাড়া নির্বাচনের কাজে একজন পথচারীর কাছেও সহায়তা চাইলে তিনি সহায়তা দিতে বাধ্য, এটা আইনেই বলা আছে। কাজেই সংসদ সচিবালয়ের এ ধরনের কর্মকাণ্ড খুব বিব্রতকর। ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্তকরণ আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠানোর জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনের জন্য এবার প্রায় ৫১ হাজার ৭৯৯ জন কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার এই তিন ধরনের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় ইসি।

এক্ষেত্রে সরকারি, সায়ত্বশাসিত, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা প্রয়োজনে বেসরকারি ব্যাংক বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ডিসিসি উত্তরে এবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৩টি, ভোটকক্ষ হচ্ছে পাঁচ হাজার ৮৯২টি। এজন্য প্রায় ১৯ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন।

ডিসিসি দক্ষিণে সম্ভাব্য ৮৮৯টি ভোটকেন্দ্রের ভোটকক্ষ ধরা হয়েছে চার হাজার ৭৪৬টি। এখানে ১৫ হাজার ৮৮৪ জন কর্মকর্তার প্রয়োজন। চসিকে সম্ভাব্য ৭১৯টি ভোটকেন্দ্রে চার হাজার ৯০৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এ নির্বাচনে ১৬ হাজার ২০৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হতে পারে।

আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করবে ইসি। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে মোট ৫৪ জন মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পেয়েছেন। এছাড়াও প্রায় এক হাজার ২৫০ জনের মতো কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন।

বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।