পরিবর্তন আসছে স্থলসীমান্ত চুক্তিতে
ভারতের আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে পাস করার জন্য যে বিলটি আনা হবে তাতে সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ এবং মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড বিনিময়ের অংশটি থাকবে। কিন্তু এই বিলের আওতা থেকে আপাতত বাদ রাখা হয়েছে আসামকে।
একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নিরাপদে রাখা- এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষার্থে এ ছাড়া আর উপায় ছিল না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। গত কয়েক মাস ধরেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই বিল আটকানোর জন্য ধারাবাহিকভাবে দরবার করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের কাছে।
প্রাথমিকভাবে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসাম রাজ্য বিজেপিকে বলা হয়েছিল, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে এই বিলটি করা অত্যন্ত জরুরি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে। রাজ্য বিজেপির কর্তব্য নেতাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে গিয়ে এই চুক্তির ভালো দিকগুলো মানুষকে বোঝানো। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ সত্ত্বেও পরিস্থিতি সহজ হয়নি। বরং আসামের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড বাংলাদেশকে দিয়ে দিতে হবে এই প্রচারে আতঙ্ক এবং উষ্মা এতটাই বেড়ে গেছে যে, শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির আওতা থেকে আসামকে বাদ রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই চুক্তির ফলে আসামের ২৬৮.৩৯ একর জমি বাংলাদেশকে দিতে হবে। কিন্তু বিনিময়ে কোনো জমি তাদের প্রাপ্য নয়।
এ বিষয়টিই যথেষ্ট বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে আসামের বিজেপি নেতাদের কাছে। তাদের মতে, এই চুক্তি হলে বিধানসভার ভোটে ভরাডুবি হবে বিজেপির। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসামের ১৪টি আসনের মধ্যে ৭টি আসন দিতে বিজেপি ইতিমধ্যে সেখানে রক্তের গন্ধ পেয়ে গেছে। তাদের ভোটের শতকরা হারও যথেষ্ট ভালো (৩৬.৫ শতাংশ)। সে রাজ্যের সাম্প্রতিক পৌর নির্বাচনেও জিতেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্কভুক্ত অধিকাংশ দেশ সফর করেছেন। এখনো তার আশা, চলতি অধিবেশনে বিলটি পাস হয়ে গেলে জুন মাসে মোদি ঢাকা সফরে যাবেন। সূত্র; বাংলাদেশ প্রতিদিন
এএইচ/এমএস