আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক রোববার
আসন্ন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে রোববার বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হবে কি না। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সকাল ১১টায় এ বৈঠক শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ প্রধান, বিজিবি প্রধান, র্যাব প্রধান, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ভোটগ্রহণ উপযোগী পরিবেশ বিরাজ করছে কি না, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী মোতায়েনের যৌক্তিকতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এ বৈঠকের পর্যালোচনা নিয়ে কমিশন নিজেদের মধ্যে আরেকটি সভা করে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বৈঠক উপলক্ষে একটি কার্যপত্র প্রস্তুত করেছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখা। কার্যপত্রে দেখা গেছে, আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ভোটগ্রহণ উপলক্ষে চার স্তরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৬৫ হাজার ফোর্স।
কার্যপত্রে আরও দেখা গেছে, নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২২ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ বিবেচনায় ২ হাজার ৭শ’ ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৬২ হাজার নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ করতে হবে ইসিকে। এছাড়া তিন সিটির প্রতি সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে পুলিশ, আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে একটি করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। সেই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র বিবেচনায় ২২ প্লাটুন বিজিবি, ৭ প্লাটুন কোস্টগার্ড ও র্যাবের ৬৮টি টিম কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টরা ২৬ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল- এ চারদিনের জন্য মাঠে থাকবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে র্যাব-পুলিশের টিম নিয়োগ করা হবে। ভোটের দিন প্রতিটি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে অন্তত ২৮৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। ভোটের আগে-পরে চারদিন উত্তরে ৯ জন, দক্ষিণে ১৪ জন ও চট্টগ্রামে ১০ জন বিচারিক হাকিমও নিয়োগ দেবে কমিশন।
এদিকে, ২৫ এপ্রিল রাত ১২টার পর বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। ২৬ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা আহ্বান, এতে যোগদান, কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ব্যবস্থা নেবে। ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে মোটরসাইকেল এবং ২৭ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে কিছু যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। প্রার্থী, প্রশাসন ও অনুমোদিত ব্যক্তি এবং প্রধান সড়ক ও হাইওয়েসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না, যা কার্যপত্রে বলা হয়েছে।
এইচএস/বিএ/আরআই