নারীদের মার্শাল আর্ট শেখার পরামর্শ জাফর ইকবালের
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য নারীদের মার্শাল আর্ট শেখার পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রিয় লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে রোববার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আয়োজিত মানববন্ধন, মৌন মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচিতে এ পরামর্শ দেন তিনি।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, নারীদেরকে দুর্বল ভাবার কিছু নেই। তারা এই দেশ গড়ার কাজে সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি হানাদাররা সকল পুরুষকে মেরে ফেলেছিলো, তখন এই মায়েরাই তাদের সন্তানদের রক্ষা করে বড় করে তুলেছেন। তখন যদি এই মায়েরা পিছিয়ে যেতো তবে আজকে এই দেশও পিছিয়ে যেতো।
নিজের জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরে আমার বাবা শহীদ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের যখন পথে বসে যাওয়ার মতো অবস্থা তখন আমার অশিক্ষিত মা তার পরিবারটাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে রেখেছিলেন বলেই আজ এখানে আসতে পেরেছি, নইলে হয়তো পথে পথে ঘুরতাম। সেই মায়ের জাতিকে সম্মান করা প্রত্যেকেরই কর্তব্য।
রোববার বেলা ২টায় শাবির কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে একটি মৌন মিছিল বের হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে সমাবেশে মিলিত হয়।
শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক ভূঁইয়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মেয়েদেরকে কখনোই শুধু মেয়ে হিসেবে নয় বরং মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আইনের হাতের চেয়েও মানুষের হাত অনেক শক্তিশালী, যখন কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে অনেকগুলো হাত একত্র হয়ে যায় তখন আইনের কিছু করার থাকে না। কোনো অন্যায় দেখলে প্রথমে আইনের কাছে যেতে হবে। কিন্তু সেখানে সুবিচার না পেলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে এর প্রতিকার করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সমাবেশে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়েও যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক নাটকীয়তা হয়েছে। অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম নারী-পুরুষকে শালীন পোশাক ও পরস্পরের প্রতি শালীন আচরণের আহ্বান জানান।
ঢাবিতে যৌন হয়রানী করে পহেলা বৈশাখের শুরুতের কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করেন শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কবির হুসেন।
একে/আরআই