চসিক নির্বাচনের প্রচারে সরকারি কর্মকর্তারা


প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৫

বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। বড় দুই দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় কয়েকদিন ধরে এসব ঘটনা চোখে পড়ছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছিরের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক, নার্স ও সেবিকারা।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে অংশ নিচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কর্মকর্তা কর্মচারীরা। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা অধীনস্তদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠিও দিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তরেও বিএনপি-আওয়ামী লীগ সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারেও সরকারি কর্মকর্তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন সরকারি ডাক্তার ও সেবিকারা। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের রোগী দেখার সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। কিন্তু ডাক্তাররা রোগী ফেলে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন। সভা চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ধারণক্ষমতার ওই মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

মিলনায়তনের মঞ্চের ব্যানারে লেখা ছিল ‘মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের সমর্থনে মতবিনিময় সভা।’ আয়োজক হিসেবে লেখা ছিল ‘সর্বস্তরের চিকিৎসক, চিকিৎসা পেশাজীবী, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, নার্সেস-নার্সেস স্টুডেন্টস কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।’ সভায় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. বদিউজ্জামান প্রধান অতিথি ছিলেন।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ইকবাল আর্সনাল অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টার মিলনায়তনে ঢোকেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। এ সময় স্বাচিপ নেতা ও চমেক হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুল হক খান, বিএমএ নেতা ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো. শরীফ, চমেক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নূর হোসেন ভূঁইয়া নাছিরকে মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাচিপ চট্টগ্রামের সভাপতি শেখ শফিউল আজম।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে জানান, কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন। তবে সবাই রোগী দেখা শেষ করে সভায় যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে চসিকের প্রধান নির্বাহী আলী আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চসিকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন। তারা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বা কাজ করতে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাপ প্রয়োগ করছেন এবং প্রধান নির্বাহীসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের অধিনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এছাড়া চসিকের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

এব্যাপারে চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘নির্বাচনী সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ এবং বিশাল মতবিনিময় সভা দুটিই নির্বাচনী আচরণবিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স এবং চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচারণা চালানোর অভিযোগে চমেক অধ্যক্ষ ও চমেক হাসপাতালের পরিচালক চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কারা প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।

এমজেড/একে/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।