অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ছে দেশে
অ্যাজমায় শ্বাসকষ্ট যার হয়েছে সেই বোঝে এটি কী পরিমাণ সাংঘাতিক এক অসুখ। ফুসফুস ভরে বাতাস নিতে না পারার কষ্টের সঙ্গে আর কিছুর তুলনা চলে না। ইনহেলার আর কোনো রকমে সামলানোর কিছু ওষুধই এতো দিন ছিল এ মারাত্মক রোগটির সহায়।
জীনগত কারণ ছাড়াও নানাবিধ দূষণ ও সচেতনতার অভাবে বাংলাদেশে অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের প্রকোপ বেশ ভয়াবহ বলে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ অ্যাজমা এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে ৮৫ লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।
সংগঠনটির সহ-সভাপতি ড. বিশ্বাস আকতার হোসেন জানিয়েছেন, জিনগত কারণের সঙ্গে বায়ু দূষণ, অ্যালার্জেন, ঋতু, আবহাওয়া ও তাপমাত্রার পরিবর্তন, কিছু ওষধ, শ্বাসনালীর সংক্রমণ ইত্যাদি এ রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ব্রিটেনের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিংস কলেজ অব লন্ডন খুঁজে পেয়েছে সেই কোষগুলোকে, যেগুলো অ্যাজমা-অ্যাটাকের সময় বাতাস নেয়ার নালীকে সঙ্কুচিত করে ফেলে বাতাসের চলাচলে বাধা দেয়। এখন বাকি এই কোষগুলোকে সঙ্কুচিত না হওয়ার ব্যবস্থা করা।
সেখানেও কিছু ক্লু এরইমধ্যে মিলে গেছে। অস্টিওপোরসিস রোগে এক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, নাম ক্যালসিলাইটিস। এই ক্যালসিলাইটিস পারে ওই বিশেষ কোষগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে। আর তা-ই যদি হয়, তবে অ্যাজমা-অ্যাটকের সময় এই ওষুধের ব্যবহারে বায়ুনালী সঙ্কোচন ঘটবে না। ফলে বুক ভরে বাতাস নিতেও থাকবে না বাধা।
যেসব শিশুদের দু বছরের নিচে শ্বাসনালীর সংক্রমণ হয় তাদের সমস্যাটি বেশি হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে হাঁপানির ওপর করা এক জরিপে শহর বা গ্রামে এর সংখ্যায় তেমন কোনো হেরফের দেখা যায়নি; তবে কারণ ভিন্ন দেখা গেছে।
যেমন শহরে বায়ু দূষণ একটি বড় কারণ অন্যদিকে গ্রামে পশুপাখির সংস্পর্শে আসার হার বেশি অথবা কৃষিকাজে কীটনাশক বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার বেশি।
এগুলো গ্রামে হাঁপানির প্রকোপ বাড়ানোর কারণ হিসেবে কাজ করে। এসব থেকে দুরে থাকা কঠিন হলেও মুখে মাস্ক ব্যবহার কিছুটা সহায়তা করবে বলে জানান ড. হোসেন ।
বিএ/এমএস