সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
দুর্নীতিবাজ, আন্ত:ক্যাডার সৌহার্দ্য বিনষ্ট, অসদাচরণ করা এবং চাকরিবিধি লঙ্ঘনকারী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এ-সংক্রান্ত একটি কড়া দিকনির্দেশনা পরিপত্র খুব শিগগিরই জারি করা হচ্ছে। এদিকে মালখানার ফেনসিডিল বিক্রি, মোবাইল কোর্টের টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপরাধে গত পাঁচ বছরে ৫৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৯ এপ্রিল পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ইংরেজি প্রথম পর্বের পরীক্ষা চালাকালে এসি (ল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশ্রাফুল ইসলাম কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সহকারী অধ্যাপক মো. মোনতাজ উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
বিষয়টির প্রতি সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এ ধরনের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের আন্ত:ক্যাডার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া ইদানীং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো লিখিত অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। সে কারণে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চাকরিবিধি মেনে চলার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
জানা গেছে, সরকারের সিদ্ধান্তে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাঠাবে বলে জানা গেছে। এদিকে রাজশাহী জেলার সাবেক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমানে বিনিয়োগ বোর্ডের উপ-পরিচালক সঞ্জয় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি রাজশাহীতে থাকাবস্থায় মালখানায় জব্দকৃত ফেনসিডিলের বোতল ধ্বংস না করে বাজারে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযোগটি তদন্ত করে সরকারি চাকরি বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ৩(বি) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে তাকে তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হয়। ২৩ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিস) মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভ্রাম্যমাণ আদালতের টাকা আত্মসাতের। অভিযোগে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় চারটি মামলায় তিনি ডিসিআর বইয়ে নিজ হাতে লিখে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। কিন্তু কার্বন কপিতে টাকার অঙ্ক কম লিখে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১-এর বিধি ৬(১) অনুযায়ী তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। ২২ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়। সঞ্জয় চক্রবর্তী ও শফিকুল ইসলামসহ প্রায় ৫৫ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এর মধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নানা অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে ২৭ জনকে, চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে ১০ জনকে, চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে চারজনের, বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে ছয়জনকে এবং নিপদ স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে ছয়জনকে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান বিভাগীয় মামলা রয়েছে ৪১টি।
এআরএস/এমএস