৭ হাজার ৫৫০ ভরি সোনা আত্মসাৎ, বিক্রয়কর্মী নিজেই গড়ে তুলেছেন জুয়েলারি
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক বিক্রয়কর্মী কৃষ্ণ বসাককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি বলছে, আত্মসাৎ করা এসব স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির টাকায় নিজেই জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন কৃষ্ণ বসাক, হয়েছেন গাড়ি-বাড়ির মালিক। পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগ আছে তার।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের একটি দল কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাককে গ্রেফতার করে।
বুধবার (১৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দোকান থেকে ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেন কৃষ্ণ বসাক। যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দোকান মালিকের ছেলে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে একাধিক জুয়েলারি দোকান রয়েছে তাদের।
তদন্তে প্রতিবেদনের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেফতার কৃষ্ণ বসাক প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিক্রয়কর্মী হিসেবে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ পাওয়া গেছে কৃষ্ণ বসাকের। তার ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং রয়েছে। পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি সোনার তথ্য পাওয়া যায়।
ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনার তথ্য জানিয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা স্বর্ণ উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
কেআর/বিএ