সরকারকে মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পলাতক সকল আসামিদের গ্রেফতারের উদ্দ্যোগ নিতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
পুলিশের (ডিআইজি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের সম-পদমর্যাদা নয় এমন সব (পুলিশ, ডিবি, এসবি ও র্যাবের) কর্মকর্তার সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করার জন্য বলা হয়েছে। তারা ওই আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন কিনা সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রতি ৪০ দিন পর পর ট্রাইব্যুনালকে জানাবেন।
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের পাঁচজনের মধ্যে অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন ছাড়া বাকী চারজন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরও তাদেরকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে পারছে না আইন শৃংখলা বাহিনী।
অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয়ার পরে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ । এর আগে গত ১০ মে কিশোরগঞ্জের পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন। আজ নির্ধারিত দিনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হবে কি-না সে বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বপণোদিত হয়ে আজ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের পালতক চারজনের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগামী ৩১ মে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
একটি মামলায় পাঁচ আসামি হচ্ছেন জেলার করিমগঞ্জের দুই সহোদর সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহমেদ এবং কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম। এরমধ্যে আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহমেদকে তারা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আটক আসামির পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশন গত ১৫ এপ্রিল এ মামলায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল এ প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও এ পর্যন্ত আসামি শামসুদ্দিনকে ছাড়া অন্যদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। বাকী আসামিরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি আজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এআরএস/আরআইপি