জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধে পুলিশের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে


প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ১৬ মে ২০১৫

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আনসারুল্লাহ বাংলাটিমসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে জঙ্গি সংগঠনটি তৎপর না হলেও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সুবিধা হয়।’

সম্প্রতি লেখক ও ব্লগারদের হত্যার পর আনসারুল্লাহ বাংলাটিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায় স্বীকার করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলো।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় কোনো বিষয় মতের অমিল হলেই তাকে নাস্তিক আখ্যা দেয় এই জঙ্গি সংগঠনটি। এরপর তাদের তালিকা তৈরি করে। তালিকা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করার জন্য পরিকল্পিত ছোট ছোট স্লিপার সেল কাজ করে থাকে। সংগঠনটির শতাধিক সক্রিয় কর্মী রয়েছে। তবে সমর্থক আরো বেশি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আনসারুল্লাহ বাংলাটিম পীর এবং ইসলামী চিন্তাবিদদেরও বিরোধীতা করে। এরা মূলত উগ্রমৌলবাদী। সংগঠনটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিরোধীতা করে। পহেলা বৈখাশের অনুষ্ঠানকে এরা বৈশাখী পূজা মনে করে। এরাই মূলত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করে থাকে। এরা আইএস’র এবং আল কায়দার অনুসারী। বহু আগ থেকেই সংগঠনটি আল কায়দার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তবে এখনো তারা যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়নি।’

ব্লগার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের অনেক শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হয়ে কারগারে রয়েছেন। ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলবে। ট্রাইব্যুনালে যেহেতু বিচার কার্যক্রম শেষ করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, তাই আশা করা যায় দ্রুত এর বিচার শেষ হবে।’

জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে তেমন কোনো আদর্শগত পার্থক্য নেই। এমনকি যারা ইসলামকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করে তাদেরও খেলাফত এক। তাদের লক্ষ্য এক। তবে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সংগঠনগুলো বাংলাদেশর অস্তিত্ত্বকে অস্বীকার করে, সংবিধানকে অস্বীকার করে ছুরে ফেলে তাদের ধারণা মতো তালেবানি বা ইসলামি অ্যাস্টেটের মতো করে একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। তাদের ধারণা এই সরকারের আমলে তারা কাজ করতে পারছে না। সংগঠনকে আরো বড় করার জন্য তাদের পক্ষের ‘অ্যাটমোস্ফায়ার’ পাচ্ছে না। এ জন্য এই সরকারকে তারা হটাতে চায়। তাদের ধারণা এই সরকারকে হটাতে পারলেই তাদের ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে। এজন্য জঙ্গি সংগঠন গুলো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে যাচ্ছে। হিযবুত তাহরীর সরকারি বাহিনীগুলোর মধ্যে ‘কু’ করানোর চেষ্টা করে সরকার উৎখাত করানো চেষ্টা করে। জেমএবি এবং আনসারুল্লাহ বাংলাটিম ক্লিং মিশনের মাধ্যমে সরকার হটাতে চায়। তাদের আপাদত টার্গেট হলো ক্লিং।’

একে/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।