ঢাকায় ৩৬ ঘণ্টার সফরে আসবেন মোদি
ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ৬ জুন ৩৬ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় আসবেন। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের সময়ে মোদির এই সফর আলাদা গুরুত্ববহন করছে। তার এই সফরে কোন কোন ইস্যু গুলো আলোচনা হবে কিংবা কার কার সাথে দেখা করবেন এ বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট করে নয়াদিল্লি বা ঢাকার পক্ষ থেকে কোন কিছু জানানো হয় নি। তবে মোদি চীন-মঙ্গোলিয়া-কোরিয়া সফর থেকে মঙ্গলবার নয়াদিল্লি ফেরার পর ঢাকা সফরসূচি নিয়ে বুধবার কথা বলবেন ভারতের কর্মকর্তারা। তখনই সফরসূচি চূড়ান্ত হবে।
অবশ্য প্রাথমিক সূচি অনুসারে সব প্রস্তুতিই পুরোদমে শুরু হয়েছে। এখন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিতব্য ডজন খানিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ প্রস্তুতি এখন চলছে।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত এই সফরের জন্য সীমান্ত বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দিনক্ষণ খোঁজা শুরু হয়। জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিদেশ সফর নির্ধারিত না থাকায় সে মাসের প্রথম সপ্তাহেই মোদির ঢাকা সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়।
ঢাকার পক্ষ থেকে ৬ ও ৭ জুনের কথা জানানো হলে নয়াদিল্লি তাতে সম্মতি দেয়। অবশ্য আগে-পরে যে কোনো দিনও প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা। সে হিসেবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সামনে ৫ থেকে ৭ জুনের মধ্যে যে কোনো সময়ের কথা জানানো হবে। কম-বেশি ৩৬ ঘণ্টার একটি সফরের খসড়াও উপস্থাপন করা হবে মোদির সামনে। সেখানেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব ও নিজ দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে সফরের দুই দিন আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রচলিত রীতি অনুসারে ভারতের কোনো ভিভিআইপি সফরে এলে তাদের সফরসূচি ও অনুষ্ঠানাদি ঢাকায় থাকা ভারতীয় দূতাবাসই নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল দফতর ও প্রয়োজনীয় সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে থাকে। এবারও সে ধরনের কর্মকাণ্ডই চলছে। প্রস্তুতি নিতে ঢাকা ও দিল্লির দফতরগুলো পর পর বৈঠক করছে। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
আনুষ্ঠানিক এই দুই সূচির বাইরে বাকিগুলো ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করবে নয়াদিল্লি। তারই প্রস্তুতি নিতে হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ ও দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মোদির ঢাকা সফরকালে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিতেই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আবার ঢাকায় রয়েছেন ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজিব খের। মোদির সফরের আগে এমন আরও কিছু সফর বিনিময় হতে পারে। বিশেষত বুধবার সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ঢাকা সফরে আসতে পারেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর সুব্রামানিয়াম।
তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলবেন। এরপর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল ঢাকা সফর করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দিক খতিয়ে দেখবেন।
জেআর/এমএস