মালয়েশিয়ায় শহীদ মিনার নির্মিত হবে
কুয়ালালামপুরে একটি শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের দেয়া প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সাবাহের কোতা কিনাবালুতে রোববার মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের চতুর্থ যৌথ কমিশনের বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার সারওয়াক প্রদেশে আরো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে মালয়েশিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি ৩১ দফার `যৌথ আলোচনার দলিল` স্বাক্ষর করেন। এতে মানবপাচার প্রতিরাধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এদিকে আসিয়ান ডায়ালগের অংশীদার হওয়ার আগ্রহ জানিয়ে একটি চিঠি মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
যৌথ কমিশনের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি। মালয়েশিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো আনিফাহ আমান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই আলোচনার বিষয়গুলোই ৩১টি দফা হিসেবে ‘বৈঠকের আলোচ্যসূচি’ হিসেবে স্বাক্ষর করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাব্য আরও ক্ষেত্র খুঁজে বের করার বিষয়ে তারা সম্মত হন। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে এক্ষেত্রে অংশীদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় আরও বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাত খুলে দেয়ারও অনুরোধ জানানো হয়। এ বৈঠকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে মালয়েশিয়ায় একটি শহীদ মিনার নির্মাণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। বাংলাদেশের এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
যৌথ কমিশনের বৈঠকে আসিয়ান ডায়লগের সদস্য হতে বাংলাদেশকে সমর্থনের নিশ্চয়তা দেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফাহ আমান। এছাড়া বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারওয়াক প্রদেশে বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর জন্য চাহিদাপত্রের বিষয়, ভিসা অব্যাহতির বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ দ্বিপাক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। দু`দেশের আবহাওয়া দফতরের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছেন।
দুই বছর পর পর যৌথ কমিশনের বৈঠক ছাড়াও দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের মধ্যে যৌথ বৈঠক `ফরেন অফিস কনসালটেশন` করতেও উভয়েই নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে। মানবপাচার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসনের নামে মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করে দুই দেশ।
এমজেড/পিআর