এখনো পাকিস্তানের আদলে সিভিল সার্ভিস চলছে : ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, আমাদের দেশ স্বাধীন হলেও পাকিস্তানের পুরোনো আদলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস চলছে। এ কারণেই জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দৃষ্টিকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সংসদ ভবনের আইপিডি কনফারেন্স কক্ষে সোমবার ওয়ালর্ড ভিশনের সহযোগিতায় সিএস আইডি আয়োজিত শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সঙ্গে শ্রমজীবী শিশুদের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি সংসদ সদস্য মীর শওকাত আলী বাদশার সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য মো. ইয়াসিন আলী, কামরুন নাহার চৌধুরী, উম্মে রাজিয়া কাজল, কাজী রোজী, জেবুন্নেসা আফরোজ, শ্রমজীবী শিশু প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।
ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, শিশুশ্রম একটি অমানবিক কাজ এবং নিন্দনীয় অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের সুরক্ষার জন্য সব ধরণের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রেখেছেন, শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মমত্ববোধ ও মাতৃত্ববোধের কারণে বাংলাদেশে আজ শিশু অধিকার নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির শিশুদের সঙ্গে বসে তাদের দাবি ও অধিকারের বিষয়ে সভা সেমিনার ও সংলাপের মত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো প্রতিটি অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব। সকল শিশুকে শিক্ষার সুযোগ দেয়া যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি তাদের স্কুলমুখি করার দায়িত্বও আমাদের নাগরিক সমাজ ও প্রতিটি বিবেকবান মানুষের।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, পাকিস্তানে যেখানে শিশুদের নির্বিচারে নির্দ্বিধায় হত্যা করা হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে শিশুকল্যাণে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে শিশুসুরক্ষার জন্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাজেটে শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ-মন্ত্রণালয়ের সঠিক তদারকির মাধ্যমে যাতে সুষমভাবে শিশুকল্যাণে ব্যয় হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আরো বেশি কার্যকারি ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে। ৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে সম্পৃক্ততাসহ প্রায় ৩২ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে। শিশুরা শিশুশ্রম নিরসনে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১০ এর সংশোধন, দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন, সরকার কর্তৃক ঘোষিত শিশু শ্রমিকের তালিকায় ময়লা সংগ্রহ ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রমকে অন্তর্ভুক্তিকরণ, শিশুশ্রম বন্ধে নিয়মিত পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা করা, জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতিমালা ২০১০-এর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারকৃত বাজেট বরাদ্দ এবং যথাযথ বাস্তবায়নসহ বেশ কয়েকটি প্রত্যাশার কথা সংসদীয় ককাসের নিকট তুলে ধরে শ্রমজীবী শিশুরা।
এইচএস/একে/আরআইপি