তারা কি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৭

বঙ্গবন্ধুর অবদান যারা অস্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি তাদের বিশ্বাস রয়েছে কি না- তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে, এটা সত্য। এই সত্যকে যারা অস্বীকার করে, তারা কি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে?

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেলে এমন মন্তব্য করেন। শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গণভবনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে ইয়াহিয়া খান শুধু বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারই করেননি, ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খান যে ভাষণ দিয়েছিল তাতে আর কারও কথা বলেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর কথাই বলেছেন। বঙ্গবন্ধুকেই দোষারোপ করেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে প্রহসনমূলক বিচার করে ফাঁসির রায় সই পর্যন্ত করেছিলেন। কই ইয়াহিয়া জিয়াউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করেননি। বা তার কথা বলেননি। অন্য কারও কথাও বলে যাননি, একজনের কথা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কথা। তাকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন।

hasina

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবাশীষ পালিত, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডিএন চট্টোপাধ্যায়, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি রমেশ ঘোষ এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদারও বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় একটা জিনিস আমরা বিশ্বাস করি এবং বলি যে, আমাদের দেশে যার যার ধর্ম সে শান্তিতে পালন করবে। একমাত্র যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে তখনই দেশে আমরা সেই রকম পরিবেশ রাখতে সমর্থ হই। সকলেই সকলের উৎসবে সমানভাবে শরিক হন। এটাই আমাদের দেশের কালচার ও নিয়ম।

তিনি বলেন, সকল ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবে এবং যে শ্লোগানটা আমরা দিয়েছি, উৎসব যার যার ধর্ম সবার- সেভাবেই আমরা পালন করে যাচ্ছি এবং আশা করি সেটাই আমরা পালন করে যাব।

hasina

শুভেচ্ছা বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী না হলে এস কে সিনহাও প্রধান বিচারপতি হতেন না। উনি (শেখ হাসিনা) আমাদের প্রধান বিচারপতি উপহার দিয়েছেন, আমরা কী দিয়েছি? বাংলাদেশের সনাতনী সমাজ তার (এস কে সিনহা) সঙ্গে নেই। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি রাজনীতি করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীর মানুষ জানে যে, কার জন্য এই ভূখণ্ডের জন্ম। যে কথা ড. কামাল হোসেন আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সে কথা রায়ে কিভাবে আসে?

তিনি প্রধান বিচারপতিকে ইঙ্গিত করে বলেন, স্নেহ-ভালোবাসা পাবেন আর শ্রদ্ধা করবেন না, এটা তো হবে না। উপস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে বাংলাদেশে কোনো হিন্দু থাকতে পারবে না।

এফএইচএস/এমএআর/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।