তৌফা-তহুরার একজন হবে চিকিৎসক
গাইবান্ধার কোমর জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেয়া দুই বোন তৌফা-তহুরাকে অস্ত্রোপচারে সফলভাবে আলাদা করেছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ ১১ মাস পর আজ (রোববার) তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসকদের সাফল্যের এই দিনে ঢামেকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, আমরা চাই তৌফা-তহুরা ভালো থাকুক। তারা বড় হয়ে উন্নত শিক্ষা গ্রহণ করুক। দু’জনের একজনও যাতে চিকিৎসক হতে পারে -সে ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৌফা-তহুরাকে কোলে নেন এবং তাদের বাবার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের ছাড়পত্র তুলে দেন।

নাসিম আরও বলেন, তৌফা-তহুরাদের মত বিরল রোগ কিংবা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের আরও হৃদয়বান ডাক্তার দরকার। আমাদের হৃদয়বান ডাক্তার আছে বলেই তৌফা-তহুরা নামটি আলাদা হয়ে তৌফা ও তহুরা হয়েছে।
এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. শাহীনুর ইসলাম, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, ঢামেকের ওয়ার্ডবয়সহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এ ধরনের সফলতা অন্য চিকিৎসকদের কাছে স্মরণীয়। মুক্তামনি, আদুরি কিংবা আবুল বাজনদাররা মানসম্মত চিকিৎসা পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। এ ধরনের সুচিকিৎসায় যারা জড়িত তাদের জন্য দেশবাসী দোয়া করছে।

রোহিঙ্গা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক উদার। মানবিক বলেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় পাচ্ছে। আমরা সীমান্ত বন্ধ করে দেইনি, নৌপথ বন্ধ করে দেইনি। লাশ আসছে, গুলিবিদ্ধরাও আসছে। আমি নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবসহ রোহিঙ্গাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা দেখতে কক্সবাজার যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম নিজ বাড়িতে শরীর জোড়া লাগানো অবস্থায় তৌফা-তহুরার জন্ম দেন। কোমরের কাছে জোড়া লাগানো শিশু দুটির সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ছিল। তবে জন্ম থেকেই তাদের প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা ছিল একটি।
গত বছরের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথমবার ঢামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাদের পায়ুপথের রাস্তা পৃথক করা হয়। পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই বোনকে পৃথক করা হয়। সাহিদা বেগম ও রাজু মিয়া দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
জেইউ/এআর/আরএস/আইআই