আইসিডিডিআরবি`র তথ্য ভুল : ড. এস কে রায়


প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ১৭ জুন ২০১৫

শিশুর অপুষ্টি দূর করতে দেশীয় উপাদানে তৈরি নতুন পথ্য রেডি টু ইউজ থেরাপেটিক ফুড (আরইউটিএফ) সংক্রান্ত আইসিডিডিআরবি’র গবেষণার তথ্য উপাত্তকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্রেষ্টফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. এস কে রায়।

দেশের অপুষ্টির শিকার শতকরা ৯০ ভাগ শিশুর এ ধরণের কৃত্রিম (সিনথেটিক) খাবারের কোনো প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে একমাত্র ঘরে তৈরি (দেশি মাছ, ডিম, লালশাক, ফিরনি, পায়েশ, হালুয়া, স্যুপ ইত্যাদি) খাবারের মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ শিশুর অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর করা সম্ভব বলে জোর দাবি করেন তিনি।

ড.রায় জানান, আইসিডিডিআরবি আরইউটিফ খাবারে দেশীয় উপাদানে গুঁড়ো দুধ মেশানো হচ্ছে। ব্রেষ্ট মিল্ক সাবস্টেটিউট (রেগুলেশন অ্যান্ড মার্কেটিং) অ্যাক্ট-২০১৩ অনুসারে গুঁড়ো দুধকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আরইউটিএফ এ ধরনের গবেষণা তথ্যে প্রচারের ফলে বিএমএস আইনের বিভিন্ন ধারা লংঘন হয়েছে।

ফ্রান্সের নিউট্রিসেট নামে একটি কোম্পানি ও ইউনিসেফ-এর অর্থায়নে আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানিরা এ গবেষণা করেছে বলে জানান ডা. রায়। আর আরইউটিএফ প্রমোশনের পেছনে গুঁড়োদুধের বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ধারণা করছেন এ বিজ্ঞানী।

আইসিডিডিআরবি’র আরইউটিএফ গবেষণার বিভিন্ন ভুল তথ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে বিবিএফ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

জাগো নিউজ এর এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ড. এস কে রায় জানান, বিএমএস অ্যাক্ট অনুসারে শূন্য থেকে ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ এবং ছয়মাস থেকে দুই বছর শিশুদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পরিপূরক খাবার খাওয়ানোর কথা বলা রয়েছে।

৯ জুন আইসিডিআরবিতে পুষ্টি বিষয়ক আন্তজার্তিক সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশীয় উপাদানে তৈরি নতুন পথ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষকরা দাবি করেন গবেষণায় দেখা গেছে এ পথ্যে ৮০ শতাংশ শিশুর অপুস্টি দূর হয়েছে।

আইসিডিডিআরবি মহাখালী কলেরা হাসপাতাল, কুড়িগ্রামে টেরে দেস হোমসের ক্লিনিক এবং ঢাকার বাড্ডা বারনেনের ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা ৩২৭ জন শিশু রোগীর চিকিৎসায় এ গবেষণা করা হয়। গবেষণায় তিন বছর সময় লাগে।

ড. এস কে রায় আরো জানান, অপুষ্টি কোন রোগ নয়। খাদ্যে নিরাপত্তা অভাব, রোগ নিয়ন্ত্রণ না হলে ও চিকিৎসা ও সেবাযত্নে ঘাটতির কারণে শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়। অপুষ্টি রোগ-জীবাণুতে সৃষ্ট কোনো কিছু নয়।

রায় বলেন, ল্যানচেট ম্যাগাজিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরইউটিএফ ও অন্যান্য সাধারণ খাবার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে আরইউটিএফের সঙ্গে ঘরে তৈরি সাধারণ খাবারের তেমন কোন পার্থক্য নেই।

তিনি আরো জানান, তীব্র অপুষ্টির শিকার মাত্র ১০ ভাগ শিশু যারা সংক্রমণের শিকার তাদের হাসপাতালে রেখে এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। বাকি ৯০ ভাগ অপুষ্ট শিশুকে ঘরে তৈরি খাবারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

ড. রায় জানান, আফ্রিকাতে তীব্র খাদ্যাভাবের কারণে উচ্চ ক্যালরির কৃত্রিম খাবার দেয়া হয়। বাংলাদেশে এর প্রয়োজন নেই। এক দুই দিনে নয়, দীর্ঘদিনে একটি শিশু অপুষ্টির শিকার হয়। তাকে কৃত্রিম খাবার খাইয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে বেশি ওজন হলেই শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ঘটছে বলা যৌক্তিক হবে না।

এমইউ/এসকেডি/আরএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।