ফোনালাপ ফাঁস আতঙ্কে বিএনপি নেতারা


প্রকাশিত: ০৮:৩৪ এএম, ২৩ জুন ২০১৫

একের পর এক ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরাম তথা দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ফোনালাপ। ফাঁস হওয়া এসব ফোনালাপে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা আর নিজেদের দুর্বলতাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ফলে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সর্বশেষ খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ছেড়ে দেয়া সংক্রান্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। সেখানে প্রকাশ পেয়েছে বিএনপির নেতাদের মধ্যে প্রকট হওয়া হতাশা। সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও।

ফোনালাপে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার এক নেতার সঙ্গে একপর্যায়ে মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির যে অবস্থা, রাস্তাঘাটে মাইনষে খালি শরম দেয়। আপনি কাউরে কইয়েন যেন, রাজনীতি-টাজনীতি ছেড়ে দিয়ে নিরিবিলি জীবন-যাপন করেন; আমি এইডা চিন্তা করতাছি। বহুত হইছে, আর দরকার নাই।’

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রইস উদ্দিন রইসের কথোপকথন ফাঁস হয়। ২১ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই গোপন কথোপকথন প্রকাশ করে ‘বাংলা লিকস’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল।

যেখানে উঠে এসেছে ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না করা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, হাসিনা-খালেদা টেলিফোন আলাপ, চীন, জামায়াত, সেনাবাহিনী, ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন, সিনিয়র নেতাদের জামিন, দলের বিভিন্ন দুর্বল দিকসহ নানা প্রসঙ্গ।

এর আগে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের ফোনালাপ ফাঁস হয়। ফোনালাপটিতে সিটি কর্পোরেসন নির্বাচন বর্জন সংক্রান্ত কথা হয় দলটির এক কর্মীর সঙ্গে।

এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের মুঠোফোনে এক ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপের এক পর্যায়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, শোনো (আবেদ) এই বিএনপিকে দিয়ে হবে না। যদি না জিয়াউর রহমানের বিএনপি করতে পারো। এটুকু জেনে রাখো। এর আগে সাদেক হোসেন খোকা ও মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়।

বিএনপি সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনের কথা ফাঁস হওয়ায় নির্দেশনা না পেয়েও অনেকে নিজ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ফোনালাপ ফাঁস আতঙ্কে রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

দলের নেতারা মনে করেন যারা ফোনালাপ ফাঁস করছে তাদের কাছে আরো অনেক রেকর্ড রয়েছে। বেছে বেছে তারা এমন রেকর্ড ফাঁস করছেন যেগুলো কোনো না কোনোভাবে দলের বিপক্ষে যায়। যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ে।

এ অবস্থায় টেলিফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে সবাই এখন সাবধানতা অবলম্বন করছেন। বিশেষ করে দল ও রাষ্ট্রবিরোধী বলে মনে হতে পারে এমন ধরনের কথার ব্যাপারে অনেক সাবধান তারা।

জানতে চাইলে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, টেলিফোনে আড়িপাতা ও ফোনালাপ ফাঁস করা বাথরুমের ছিদ্র দিয়ে দেখার মতো অত্যন্ত সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক। এটি ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

এমএম/বিএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :