পল্টনে গাড়ি ভাংচুর-অগ্নিসংযোগে বিএনপি জড়িত : পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০১ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গত ১৪ নভেম্বর যানবাহন ভাংচুর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মী জড়িত বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

এ ঘটনায় ৯০ জনকে আসামি করে পল্টন থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ। তদন্ত ও গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে হামলায় জড়িত সবাই বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।

এর আগে ১৪ নভেম্বর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়িতে দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত ওয়াসিমকে (২৮) গ্রেফতার করে পল্লবী থানা পুলিশ। বুধবার রাত ১২টার দিকে পল্লবীর মুসলিম ক্যাম্প থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রেফতার ওয়াসিম গত ১৪ নভেম্বর পল্টনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, গত ১৪ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হলে নয়া পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুপুরের দিকে একটি বড় মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলা এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশের গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে উন্মত্ততা প্রকাশ এবং পুলিশকে মারধর করে।

গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৯০ জনকে আসামি করে পল্টন থানায় তিনটি মামলা হয়। তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ প্রকাশ্য-গোপনে তদন্ত করে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পল্লবী থানা পুলিশ মুসলিম বিহারী ক্যাম্প থেকে গত রাতে ওয়াসিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ পর্যন্ত ১৪ জন গ্রেফতার হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা হেলমেট পরে গাড়ি ভাংচুর করেছে। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে, সেখানে বিএনপির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে৷

বিএনপির বড় কোনো নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হামলার ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে বিএনপির বড় কোনো নেতা জড়িত রযেছে কি-না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জেইউ/এএইচ/জেআইএম