চলতি সপ্তাহে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ফল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ এএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

সারাদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল চলতি সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে ফলাফলের খসড়া তৈরি করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করার কথা ভাবছে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজার শূন্য আসনের বিপরীতে সারাদেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ আবেদন জমা হয়। মেধা তালিকায় প্রথম থেকে ১৪তম নিবন্ধনধারী প্রায় ৭ লাখ আবেদনকারী গড়ে ৭টি করে আবেদন করেছেন।

জানাতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফলাফল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে, বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহে শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেধা তালিকায় নির্বাচিত প্রার্থীকে এসএমএস পাঠানো হবে। পাশাপাশি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইলে এসএমএস ও ই-মেইল পাঠিয়ে নির্বাচিত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে বলা হবে।’

ফলাফল প্রকাশের দুই থেকে তিনদিন পর থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৯ হাজার ৫৩৫ শিক্ষক নিয়োগ দিতে গত ১৮ ডিসেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ১৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইন আবেদন কার্যক্রম চলে। তালিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে ১৪তম নিবন্ধিত চাকরিপ্রত্যাশী পৌনে সাত লাখ প্রার্থী প্রায় ৩০ লাখ আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, এ নিয়োগ কার্যক্রম স্থাগিত করতে আদালতে ৮টি মামলা দায়ের করেন বিভিন্ন ব্যাচের নিবন্ধিত প্রার্থীরা।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, আবেদন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এনটিআরসিএর ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল তৈরির জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকে মাঝরাত পর্যন্তও ফল তৈরির কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ দু’দিনেও তারা ফলাফল তৈরির কাজ করছেন। এ কারণে আবেদন শেষের ১৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধিত প্রার্থীরা নিয়োগ পেতে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন। মেধাক্রম অনুযায়ী একাধিক স্থানে যোগ্য বিবেচিত হওয়ায় প্রার্থীর প্রথম পচ্ছন্দের প্রতিষ্ঠানটিতে নির্বাচন করে বাকিগুলো থেকে তার নাম ডিলিট (মুছে) ফেলা হচ্ছে। এভাবেই শিক্ষক নিয়োগ ফলাফলের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

তারা জানান, অনেক বড় সংখ্যক নিয়োগ হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে এ ফলাফল প্রকাশ করার কথা ভাবছে এনটিআরসিএ। তবে আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ঢাকায় বাইরে অবস্থান করবেন বলে সংবাদ সম্মেলন করাটা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে পূর্বের পদ্ধতিতে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ফল প্রকাশের সংবাদ গণমাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হতে পারে। তবে কোন পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ করা হবে সে বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আশফাক হুসেন জানান, আদালতের নির্দেশে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষক নিয়োগে বয়সসীমা ৩৫ করা হয়েছে। বয়সসীমা নির্ধারিত হওয়ায় যারা আবেদন করতে পারছেন না তারা নতুন করে হাইকোর্টে ৮টি রিট করেছেন। ইতোমধ্যে আমরা ৭টি খারিজ করেছি। বাকিটা আজ মঙ্গলবার মীমাংসা করার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগের ফল তৈরি করছি। এখানে কারো অনিয়ম করার সুযোগ নেই। যদি কেউ করেও থাকে তবে তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তাই এ বিষয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না বলে আমি মনে করি।’ পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলেও জানান এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান।

এমএইচএম/এসআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :