উল্লাপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্র নিরবকে বাঁচান
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া খাঁপাড়া গ্রামে বাস মো. হাসান মামুনের (মন্টু)। খামার থেকে ডিম কিনে দোকানে দোকানে বিক্রি করে সে। গত ১৫ জুলাই (সোমবার) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি উন্মুক্ত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের বর-কনেসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়। মন্টুর মেয়ের স্বামী খোকনও মারা যান।
এ দুর্ঘটনায় চারজন আহত হন। তাদের একজন সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. সাইফুল তালুকদার নিরব। নিরব মন্টুর ছেলে।
এখন নিরবকে বাঁচাতে যে অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড়েই মহাবিপদে তার পরিবার। পরিবারের আশঙ্কা, টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা না করাতে পারলে নিরবের অবস্থা খারাপের দিকে যাবে।
দুর্ঘটনার পর নিরবকে সোমবার রাতেই সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে সে।
ঘটনার পর থেকে নিরবের সঙ্গে আছেন তার নানা মো. আব্দুস ছালাম। শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।’
আব্দুস ছালাম জানান, শুক্রবার পর্যন্ত চার লাখের ওপর বিল এসেছে। ওর মাথার খুলি খুলে ফেলা হয়েছে। দেড় থেকে দুই মাস পর আবার তা লাগাতে হবে। তখন আবার দুই লাখ টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তিনি আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। টাকা জোগাড়ও করতে পারছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও টাকা না দিতে পারলে আর রাখবে না।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়নি বলে জানান আব্দুস ছালাম। এমন পরিস্থিতিতে নিরবের চিকিৎসা ও টাকার জোগাড় নিয়ে বিপদে তারা।
নিরবের নানা বলেন, ‘সাহায্য না পেলে…। অভাইব্যা লোক। কেউ সাহায্য না করলে বিল কী কইরা দিমু? আমি বাড়ি খবর দিত্যাছি। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে পারত্যাছে না। এরা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) টাকার জন্য চাপ দিত্যাছে।’
নিরবকে সুস্থ করতে এখন পর্যন্ত ১১ ব্যাগ ও নেগেটিভ রক্ত লেগেছে। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাত ব্যাগ, কিনেছেন তিন ব্যাগ এবং গ্রামের ছেলের কাছ থেকে এক ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেছে নিরবের পরিবার।
এত খারাপ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা নিরবের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে আব্দুস ছালাম বলেন, ‘আমি মাত্র দুই মিনিট আগে দেখে আসলাম, ও ঘুমাইতাছে। আজ সকালে দেখছি হাত-পা নাড়ায়। ওর মাথার ব্যান্ডেজ খুইলা দিছে। এখনও আইসিইউতেই আছে।’
তিনি বলেন, ‘বোনের স্বামী খোকন ও নিরব ওই বিয়েতে গেছিল। নিরবের বোনের স্বামী ওখানেই মরছে। নিরবের এই অবস্থা।’
এ রকম পরিপ্রেক্ষিতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে নিরবের পরিবার। সাহায্য করতে চাইলে নিরবের নানা আব্দুস ছালামের (০১৭১৪-৫৬৬৫৪০) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
পিডি/বিএ/এমএস