ক্ষণগণনা সফলে গণমাধ্যম প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা কর্মসূচি নিয়ে গণমাধ্যমের নির্বাহী ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে সরকার।

বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ এ মতবিনিময় করে। বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। আগামী বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সভার শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘প্রথমে আমাদের চিন্তা ছিল ৮ ডিসেম্বর থেকে ক্ষণগণনা শুরু হবে কিন্তু পরবর্তীকালে চিন্তা করলাম আমরা এটা যদি সারাদেশে বর্ণাঢ্যভাবে করতে চাই তাহলে আমাদের প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ প্রয়োজন আছে। আপনাদের (গণমাধ্যমপ্রধান) সঙ্গে একটা মতবিনিয়েরও প্রয়োজন আছে।’

mujibborso-01.jpg

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। ১০ জানুয়ারি যেহেতু একটা ঐতিহাসিক দিন, বঙ্গবন্ধু ওইদিন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। এটি জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।’

‘তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সামনে রেখে ক্ষণগণনাকে সেই দিনটাতে শুরু করতে গিয়ে আমরা মনে করি, ঐতিহাসিক দিনের সঙ্গে একটা নতুন মাত্রা আমার যোগ করতে পারব। পুরো বিষয়টি সেভাবে চিন্তা-ভাবনা করে করা হয়েছে।’

ক্ষণগণনার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে কামাল নাসের বলেন, ‘আমরা ঠিক করেছি, প্রতিটি জেলায় ক্ষণগণনার জন্য আলাদাভাবে একটি স্থাপনা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ক্ষণগণনাটি প্রধানমন্ত্রী ১০ জানুয়ারি উদ্বোধন করবেন। ঢাকায় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউসহ মানুষের সমাগম ঘটে, এমন বিভিন্ন স্থানে ক্ষণগণনার ডিসপ্লে স্থাপন করা হবে।’

ক্ষণগণনার লোগো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে কামাল চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর এমন একটি বিষয়কে গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করবে। লোগোটা দিয়ে দেয়া হবে।’

জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, ‘ক্ষণগণনার কর্মসূচির জন্য সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৫৩টি জেলা এবং মুজিবনগর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বেছে নেয়া হয়েছে। আমাদের জায়গা সিলেকশন হয়েছে, অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। মেশিনটি স্থাপন করা হয়নি।’

১০ জানুয়ারির কোন সময় ক্ষণগণনা শুরু হবে, তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে বলে জানান প্রধান সমন্বয়ক। ক্ষণগণনা কর্মসূচি সামনে রেখে গণমাধ্যমপ্রধানদের প্রোগ্রাম তৈরি করারও অনুরোধ জানান তিনি।

‘বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি লন্ডন থেকে এসেছিলেন, সেখানে (লন্ডন) বড় একটা আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের হাইকমিশনকে বলতে পারি। দিল্লিতে বঙ্গবন্ধু যখন আসেন তখন সেখানে সমাবেশ হয়, সেখানেও কোনো আয়োজন করা যায় কি-না। বঙ্গবন্ধু ঢাকায় ফিরে আসার পর সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় একটি গান গেয়েছিলেন। তিনি এখনও বেঁচে আছেন, তাকে এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি-না‘, এসব বিষয় বিবেচনার জন্য বলেন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ক্ষণগণনার ডিসপ্লের সঙ্গে বড় বালিঘড়ি স্থাপনসহ নানা প্রস্তাবও তুলে ধরেন গণমাধ্যমের শীর্ষব্যক্তিরা।

mujibborso-01.jpg

প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছু কিছু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে বলে জানান কামাল নাসের চৌধুরী।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১০ জানুয়ারির কাউন্ট ডাউন কর্মসূচির সর্বাত্মক প্রস্তুতি যাতে আমরা সবাই সফলভাবে করতে পারি সেই প্রত্যাশা রাখছি। এখানে যে মতামতগুলো এসেছে, আশা করি জন্মশতবার্ষিকী কর্মসূচির চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।’

বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা প্রস্তুতি, আমাদের আসল অনুষ্ঠান শুরু হবে ১৭ মার্চ থেকে। সেটা এক বছর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। তাই, আমরা যাতে আমাদের সমস্ত এনার্জি কাউন্ট ডাউন অনুষ্ঠানে শেষ করে না ফেলি। তাহলে শেষ পর্যন্ত আসল উদযাপন মুজিববর্ষ, সেটা মার খাবে। কাজেই আমাদের পরিকল্পনা সেভাবেই বিস্তৃত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা জিনিস গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা। এই স্বতঃস্ফূর্ততা তরুণদের ওপর নির্ভর করছে। সেজন্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের এখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, তথ্য সচিব মো. আব্দুল মালেক এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/এমএআর/এমএস