শাহবাগে মুশতাকের গায়েবানা জানাজা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন।

জানাজার আগে বক্তৃতা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ প্রমুখ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করলে হবে না। এই হত্যারও বিচার করতে হবে। এই হত্যায় যদি আপনি জড়িত থাকেন, আপনারও বিচার হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজেও বন্দি। তাই আপনি সত্যি কথা বলতে পারেন না। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে আটককৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিন, এই আইন বাতিল করুন। না হয় আপনাকেও একদিন এই আইনের মারপ্যাঁচে পড়তে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘একজন অসুস্থ মানুষকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। যেখানে পদ্মা সেতু, করোনার টিকার জন্য শেখ হাসিনা বাহবা পাচ্ছে, সেখানে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য কেন শেখ হাসিনা দায়ী হবেন না?’

jagonews24

সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, নোয়াখালীতে সাংবাদিক মুজাক্কিরকে তিন পক্ষ মিলে গুলি করে হত্যা করেছে। আগে এক সময় স্বাভাবিক মৃত্যুর দাবি উঠতো। কিন্তু এখন জীবনের অধিকার, স্বাভাবিক মৃত্যুর নিরাপত্তা চাইতে চাইতেই আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার কথা বলে এদেশের পতাকায় আর কত মানুষের লাশ ঢেকে রাখবেন?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কথা না বলার যে প্রবণতা তা ভাঙতে হবে। দম বন্ধ হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই আমাদের এ নীরবতা ভাঙতে হবে।

তানজিম উদ্দিন খান বলেন, আজকে কথা বলা খুব সহজ নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আজ শুধু মুখের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়নি, প্রাণ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। এর আগে অনেক গুম, খুন হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা সবাই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী। কিন্তু আজ তা মুশতাক ভাই পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। সবার আওয়াজ তুলতে হবে। উন্নয়নের কথা বলে তারা আমাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আজকে যারা উন্নয়নের বিষ্ঠা খাচ্ছে, তারা সবাই প্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধি করছে। এদিকে আমাদের প্রাণ হুমকির মুখে পড়েছে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, খালেদা জিয়া যদি পেট্রোল বোমা মারার হুকুমের আসামি হয় তাহলে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে মুশতাক হত্যাকান্ডের জন্য হুকুমের আসামি করা উচিত। নোয়াখালীর সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় ওবায়দুল কাদেরকে হুকুমের আসামি করা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুশতাক হত্যার আসামি করা উচিত। মুশতাকের খুনের দায় বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীদেরকে নিতেই হবে।

আল-সাদী ভূঁইয়া/এএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]