খাদ্যে দুই শতাংশের বেশি ট্রান্সফ্যাট থাকতে পারবে না, গেজেট জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৯ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা ২০২১’ জারি করেছে সরকার। গত ২৯ নভেম্বর প্রবিধানমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। খসড়াটি প্রণয়ন করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

প্রবিধানমালা অনুযায়ী, দুই শতাংশের বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (অসম্পৃক্ত চর্বি) থাকা কোনো খাদ্যদ্রব্য বিক্রি, বিতরণ, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন এবং আমদানি করা যাবে না।

ট্রান্সফ্যাট এক ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি, যা ডালডা কিংবা বনস্পতি ঘি নামে আমাদের দেশে পরিচিত। এটাকে পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েলও (পিএইচও) বলা হয়। এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় দাহ্য তেল বা চর্বিও ট্রান্সফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা দুই শতাংশ। কিন্তু আমাদের দেশে তেলজাতীয় খাদ্যে এ মাত্রা অনেক বেশি।

বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে উচ্চমাত্রায় চর্বিজাতীয় পদার্থ ট্রান্সফ্যাটি এসিড (টিএফএ) থাকায় এসব খাবার গ্রহণে হৃদরোগসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে ইতোমধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন সংগঠন। এই প্রেক্ষাপটে প্রবিধানমালাটি প্রণয়ন করেছে সরকার।

প্রবিধানমালায় বলা হয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মোড়কাজাত খাদ্য, সরাসরি আহার্য খাদ্য, চর্বির ইমালসনসহ যেকোনো তেল এবং চর্বি, খাদ্য প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল বা মানুষের খাওয়ার উদ্দেশ্যে বা খাওয়ার উদ্দেশ্যে অনুমোদিত যে কোনো খাদ্য বা খাদ্যের অংশের ক্ষেত্রে এই প্রবিধানমালা প্রযোজ্য হবে।

তবে রুমিন্যান্টজাত (জাবর কাটা প্রাণী থেকে আসা) ট্রান্স ফ্যাটি এসিড এবং প্রাণীর চর্বিতে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের ক্ষেত্রে এই প্রবিধানমালা প্রযোজ্য হবে না।

খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের সর্বোচ্চ মাত্রার বিষয়ে প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, রুমিন্যান্টজাত ট্রান্স ফ্যাটি এসিড ছাড়া চর্বির ইমালসনসহ যেকোন তেল এবং চর্বি, যা এককভাবে বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বা যেকোন খাদ্যের অংশ, যা মানুষের আহার্যের উদ্দেশ্যে বা মানুষের আহার্যের উদ্দেশ্যে অনুমোদিত বা খুচরা ব্যবসা, ক্যাটারিং ব্যবসা, রেস্তোরাঁ, প্রতিষ্ঠান, বেকারি বা যেকোন খাদ্য স্থাপনার খাদ্য প্রস্তুতের জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যাতে দুই শতাংশের (প্রতি ১০০ গ্রামে ২ গ্রাম) বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড বিদ্যমান তা বিক্রি, বিতরণ, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন বা আমদানি করা যাবে না। এমন চর্বির ইমালসনসহ তেল ও চার্বি খাদ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

রুমিন্যান্টজাত ট্রান্স ফ্যাটি এসিড ছাড়া দুই শতাংশের (প্রতি ১০০ গ্রামে ২ গ্রাম) বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড আছে এমন প্রক্রিয়াজাত, মোড়কাবদ্ধ, সরাসরি আহার্য খাদ্য বিক্রি, বিতরণ, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন, আমদানি করা যাবে না।

দুই শতাংশের (প্রতি ১০০ গ্রামে ২ গ্রাম) বেশি রুমিন্যান্টজাত ট্রান্স ফ্যাটি এসিড ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ীকে স্বীকৃত ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের উৎস সংক্রান্ত বিশ্লেষণ সনদ সংরক্ষণ করতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি দাখিল করতে বাধ্য থাকবেন বলে প্রবিধানমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, মোড়কাবদ্ধ খাদ্যের লেবেলে বাধ্যতামূলকভাবে ২০১৭ সালের মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা অনুযায়ী ট্রান্স ফ্যাটি এসিড সম্পর্কিত তথ্যাদি ঘোষণা করতে হবে।

যদি কোনো খাদ্যে আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড তেলের (পিএইচও) ব্যবহার হয় তবে এর নির্দিষ্ট পরিমাণসহ তথ্যাদি মোড়কাবদ্ধ খাদ্যের লেবেলিংয়ের উপাদান তালিকায় উল্লেখ করতে হবে। পিএইচওর সংমিশ্রণে গঠিত কোনো খাদ্যোপকরণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হলে পিএইচওর পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্যাদি সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। খাদ্যের লেবেলে ‘ননহাইড্রোজেনেটেড’ প্রকাশ করা যাবে না, হাইড্রোজেনেটেড তেলের ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে সম্পূ্র্ণরূপে বা আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড উল্লেখ করতে হবে। এমন তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

খাদ্যের লেভেলিং, বিপণন বা বিজ্ঞাপনে কোনো খাদ্যপণ্য টিএফএ মুক্ত বা স্বল্প টিএফএ যুক্ত এমন দাবি করা যাবে না।

প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত বিশ্লেষণ সনদ গ্রহণ করতে হবে। ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ডাব্লিউএইচও প্রোটোকল ফর মেজারিং ট্রান্স ফ্যাটি এসিডস ইন ফুডস, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডাডারাইজেশন (আইএসও), অ্যাসোসিয়েশন অব অফিসিয়াস অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট (এওএসি), আমেরিকান অয়েল কেমিস্ট সোসাইটি (এওসিএস), ইন্টারন্যাশনাল ডেইরি ফেডারেশনের (আইডিএফ) মধ্যে যে কোনো একটি হালনাগাদ করা বিশ্লেষণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

আরএমএম/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]