ডুবে শিশুমৃত্যু রোধ-প্রারম্ভিক বিকাশে প্রকল্পের যাত্রা শুরু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২০ পিএম, ১২ জুন ২০২২

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধ এবং শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে নেওয়া সরকারি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৫টি উপজেলায় আট হাজার শিশুযত্ন কেন্দ্রে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী দুই লাখ শিশুকে সেবা দেওয়া হবে।

রোববার (১২ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে “সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং শিশুর সুবিধা প্রদান প্রকল্প” উদ্বোধন হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৬ জেলার ৪৫টি উপজেলায় আট হাজার শিশুযত্ন কেন্দ্র করা হবে। এসব কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য শিশুর যত্ন এবং তত্ত্বাবধান সহায়তা দেওয়া হবে। কেন্দ্রে পাঁচ ঘণ্টা থাকার সময় শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সহায়ক নানা শিক্ষা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ৪৫ উপজেলায় এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী দুই লাখ শিশু এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে।

একইসঙ্গে এসব উপজেলায় ছয় থেকে ১০ বছর বয়সী তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানো হবে। প্রকল্পভুক্ত অঞ্চলের দুই লাখ মা-বাবাকে সচেতন করা হবে, যেন তারা শিশুর যত্ন, সুরক্ষা এবং বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা বলেন, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, শিক্ষা ও যত্ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সার্বিক বিকাশে নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ১৬ জেলার ৪৫ উপজেলায় ৮ হাজার শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে দুই লাখ শিশুকে ইসিডি (প্রারম্ভিক বিকাশ) সেবা দেওয়া হবে এবং তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ প্যারেন্টিং সেশন পরিচালনার মাধ্যমে অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, যে কোনো প্রকল্প সফল হবে, যদি প্রকল্পটির সঠিক স্টাডি ও ডিজাইন করতে পারেন। মনিটরিং ও সুপারভিশন কমিউনিটি সম্পৃক্ততার ওপরও প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করে। এ প্রকল্পের সঙ্গে কমিউনিটির সম্পৃক্ততা থাকায় আমার বিশ্বাস, প্রকল্পটি সফলতা অর্জন করতে পারবে।

‘যে উদ্দেশে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে তা পূরণ হলে বা প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে পরবর্তীকালে তা অবশ্যই সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে’- জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সমাজভিত্তিক সমন্বিত প্রাক-শৈশব বিকাশ (ইসিসিডি) সেবা প্রদানসহ শিশু সুরক্ষায় এ প্রকল্পটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদন হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। যার ৮০ শতাংশ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ২০ শতাংশ আসবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে দেশের ১৬টি জেলার ৪৫ উপজেলায় শিশুযত্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ স্থানীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের এনজিওর মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিজ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এতে আরও জানানো হয়, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ২৫ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারিত থাকায় এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ জরুরি। এ প্রকল্পের সফলতা এসডিজির কয়েকটি সূচকে এগিয়ে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু ও অপুষ্টি হ্রাস, গুণগত মানের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান নাট্যজন লাকী ইনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিজের পরিচালক কেলী লারসন, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের (আরএনএলআই) হেড অব ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামস্ স্টিভ উইলস, সিনারগোসের প্রোগ্রাম পরিচালক চং-লিম লি, বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি মাহমুদা আকতার এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) উপ-নির্বাহী পরিচালক আমিনুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরএমএম/এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।