বাসেরও সিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ০৮ জুলাই ২০২২

ঢাকায় পৌঁছে গাবতলীর মোড় ঘুরে কাউন্টারে আসতে বাসগুলোর সময় লাগছে প্রায় দুই ঘণ্টা। আমরা টাইম ম্যানেজ করতে পারছি না। বাস এলেই যাত্রী উঠিয়ে দিচ্ছি। সড়ক অব্যবস্থাপনার কারণে বাসের শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। এভাবেই কথাগুলো জাগো নিউজকে বলছিলেন রজনীগন্ধা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নূর হোসেন।

তিনি বলেন, যাত্রী এবার ভালো আছে। আমাদের গাড়ি কম। শনিবার পর্যন্ত এ চাপ থাকবে।

শুক্রবার (৮ জুলাই) দুপুরে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ দেখা যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের তিন থেকে চার ঘণ্টা পর কাউন্টারে বাস আসছে। অন্যদিকে কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে, মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসায় রাস্তায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়তে পারছেন না।

শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মোহাম্মদ মনির জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে আসা অনেক বাস এখনো গাবতলী পৌঁছাতে পারেনি। সড়কে অনেক গাড়ির চাপ। আমাদের শিডিউল সময় ছাড়িয়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা দেরি হচ্ছে।

ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সাব্বির বলেন, জায়গায় জায়গায় হাট বসার কারণে মহাসড়কের যানজট দেখা দিয়েছে। আমরা নির্দিষ্ট সময়ে বাস ছাড়তে পারছি না। তবে বাস এলেই আমরা যাত্রী উঠিয়ে দিচ্ছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাবতলীতে যাত্রীর চাপ থাকলেও সে অনুযায়ী বাস সরবরাহ করতে পারছে না পরিবহনগুলো। রাজধানীতে চলা লোকাল বাস, গরুর ট্রাক এমন কী অ্যাম্বুলেন্স করেও যাত্রীদের ঢাকা ছাড়তে দেখা যায়।

jagonews24

সুবর্ণ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জুবায়ের রহমান রাজিন বলেন, মোটরসাইকেল ও ছোট পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এবার যাত্রী বেশি পাচ্ছি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে চাপ বাড়ছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এ চাপ থাকবে।।

যাত্রী হয়রানি কমাতে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি করপোরেশন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে গাবতলীতে বসেছে ভিজিলেন্স টিম।

সেখানে দায়িত্বে থাকা বিআরটিত্র’র ডেপুটি ডিরেক্টর সুব্রত দেবনাথ জাগো নিউজকে বলেন, ভাড়া নিয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আমরা জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা করেছি। তবে বেশিরভাগ যাত্রীর অভিযোগ বাস সময় মতো ছাড়ছে না। ভাড়া নিয়ে খুব একটা অভিযোগ নেই, টাইম শিডিউল নিয়েই বেশিরভাগ যাত্রীর অভিযোগ। গাড়িগুলো আসা মাত্রই আমরা ছাড়ার ব্যবস্থা করছি।

অন্যদিকে, ট্রেনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই মানুষের দীর্ঘ সারি। স্টেশনের প্রবেশপথেও যাত্রীদের গাদাগাদি। তবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বালাই চোখে পড়েনি কোথাও। এ বিষয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষও যেন নির্লিপ্ত।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত মঙ্গলবার ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দুদিন কোনো শিডিউল বিপর্যয় না থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার কিছু ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে। তবে শুক্রবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে প্রায় সব ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঈদযাত্রীদের। অধিকাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের দেড়-দুই ঘণ্টা পর স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ৯টা পর্যন্ত ছেড়ে যায়নি সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের নীলসাগর এক্সপ্রেস, সকাল ৭টার ধূমকেতু এক্সপ্রেস এবং ৮টা ১৫ মিনিটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস।

এসএম/আরএডি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।