টিপু-প্রীতি হত্যা: গ্রেফতার চারজনের তিনজনই আ’লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২২

রাজধানীর শাহজাহানপুর আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যা মামলায় গ্রেফতার চার আসামির একজন জাতীয় পার্টির নেতা এবং অন্য তিনজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে জুবের আলম খান রবিন জাতীয় পার্টি এবং মাহবুবুর রহমান টিটু, আরিফুর রহমান সোহেল ওরফে ঘাতক সোহেল ও খায়রুল তিনজনই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তারা বর্তমানে এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এ চারজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম।

রোববার (৩১ জুলাই) এ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, টিপু হত্যায় এর আগে বেশ কজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া জবানবন্দি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষত খুনের সন্দেহভাজন সমন্বয়কারী সুমন শিকদার ওরফে মুসাকে ওমান থেকে গ্রেফতার করে দেশে আনা হয়। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মতিঝিল ও আশপাশের এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে ডিবি।

গ্রেফতাররা হলেন জুবের আলম খান রবিন, আরিফুর রহমান সোহেল (ঘাতক সোহেল), খায়রুল ও মাহবুবুর রহমান টিটু। এর মধ্যে খায়রুল মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং টিটু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

টিপু-প্রীতি হত্যা: গ্রেফতার চারজনের তিনজনই আ’লীগ নেতা

হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেফতারদের মধ্যে টিপু হত্যায় কার কী ভূমিকা তা তদন্ত করে দেখা হবে। আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসতে পারে।

এদিকে টিপু-প্রীতি হত্যার ঘটনায় বগুড়া থেকে গ্রেফতার শুটার মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে মুসার নাম আসে। পরে জানা যায়, মুসা ঘটনার আগেই ১২ মার্চ দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত চলে যান। তার সন্ধান পেতে ৬ এপ্রিল পুলিশ সদরদপ্তরের এনসিবি শাখায় যোগাযোগ করা হয়।

পুলিশ সদরদপ্তর গত ৮ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইন্টারপোলের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করে। এরই মধ্যে ৮ মে জানা যায়, মুসা দুবাই থেকে ওমানে প্রবেশ করেছেন। এনসিবির সহযোগিতায় গত ১২ মে মুসাকে গ্রেফতার করে ওমান পুলিশ। পরে বাংলাদেশ পুলিশের একটি টিম ওমানে গিয়ে ৯ জুন মুসাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।

গত ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান প্রীতি (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় টিপুর গাড়িচালক মুন্নাও গুলিবিদ্ধ হন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতেই শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়।

টিটি/এমকেআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।