ভালোবাসা দিবসেও ভিড় নেই হাতিরঝিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ফাল্গুন মাসের প্রথমদিন আজ, হলুদে সেজেছে প্রকৃতি, তার ছোঁয়া লেগেছে শিশু-কিশোর-তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষের মনে। তার ওপর আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বিশেষ এই দিনে প্রিয়জন বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথাও বেরিয়ে আসার মোক্ষম সময়। তবে কর্মদিবস হওয়ায় সেই পরিকল্পনায় ভাটা পড়েছে রাজধানীবাসীর। কর্মব্যস্ততার কারণে এদিন দম ফেলার ফুরসত পাননি অনেকে। তার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিলে।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত হাতিরঝিলে অবস্থান করে দর্শনাথীদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাপ বাড়তে দেখা যায়। সন্ধ্যার মধ্যে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>ভালোবাসা দিবসে যে বার্তা দিলেন জয়া আহসান

এসময় হাতিরঝিলের প্রধান আকর্ষণ নৌ-ভ্রমণেও তেমন চাপ দেখা যায়নি। গত বছর ভালোবাসা দিবসে যেখানে দীর্ঘক্ষণ নৌকায় ওঠার টিকিট না পেয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন, সেখানে এবছর অনায়াসে নৌকায় ভ্রমণ করছেন দর্শনার্থীরা।

আজ হাতিরঝিলে আসা অধিকাংশ মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। গল্প-আড্ডায় মশগুল বিভিন্ন বয়সী মানুষ। ফুটপাতে ছোটাছুটি করতে দেখা যায় শিশুদের। ঘুরতে আসা সবার চোখেমুখে আনন্দের ছাপ পরিলক্ষিত হয়।

এদিন হাতিরঝিলে তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বসন্তের সাজে হলুদ শাড়িতে সেজেগুজে প্রিয়জনের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন তারা। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে পরেছেন বাহারি গয়না। মাথায় ফুলের রিংতোড়া, খোঁপায় লাল গোলাপ। কেউ কেউ আবার খোঁপায় পরেছেন বেলির মালা। তরুণদের পরনে ছিল বাহারি রঙের পাঞ্জাবি। গল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন স্পটে ছবি-সেলফি তোলায় ব্যস্ত তারা। অনেককে আবার টিকটক ভিডিও বানাতে ব্যস্ত দেখা যায়।

আরও পড়ুন>>ভালোবাসা দিবসে শফিকুলের মুখে হাসি

তবে হাতিরঝিলে আসতে যানজটের কবলে পড়ে বিরক্তির কথা জানিয়েছেন অনেকে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঘুরতে আসা কামরুজ্জামান বলেন, ‘এটুকু রাস্তা দেড় ঘণ্টায় এলাম। এত যানজট হবে ভাবতে পারিনি। তারপরও প্রিয়জনকে সময় দিতে যানজট উপেক্ষা করেই বের হয়েছি।’

পাশেই আড্ডা দিচ্ছিলেন দুই বান্ধবী তাজরুবা ও দীপ্তি। তারা বলেন, ‘কষ্ট করে হলেও হাতিরঝিলে এসেছি। কারণ ফাল্গুন উপভোগের সেরা জায়গা এটা। এখানের মতো স্নিগ্ধ পরিবেশ আর কোথাও মেলে না।’

দর্শনাথী উপস্থিতি কমের বিষয়ে হাতিরঝিলের পাশের এলাকা মধুবাগের বাসিন্দা রহিত বলেন, ‘সবসময় এখানে আসি। কিন্তু এমন দিবসে আজ লোকজন নেই। মজা পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে সবার মধ্যে ভালোবাসা কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই স্কুল-কলেজ নিয়ে ব্যস্ত। এখানে আসবে সন্ধ্যার পরে।’

হাতিরঝিলে দীর্ঘদিন ধরে মুড়ি বিক্রি করছেন আব্বাস মিয়া। তিনি বলেন, ‘আজ লোকজন তুলনামূলক কম। অভাবের কারণে মানুষ ঘোরাফেরা ছেড়ে দিচ্ছে।’

টুইস্ট অফ টেস্ট ফাস্টফুডের ব্যবস্থাপক সন্ন্যাসী চিসিম বলেন, ‘অন্য বছর এসময় অনেক লোক হতো। এবার এমন কেন বুঝতে পারছি না। কোনো মানুষ দেখছি না। সন্ধ্যার পর হয়তো কিছু হবে। কিন্তু সবমিলে ব্যবসা ভালো যাবে না বুঝতে পারছি।’

আরও পড়ুন>>ভাড়ায় ‘বয়ফ্রেন্ড’ হন তিনি

তবে দর্শনার্থী কম থাকায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারায় খুশি অনেকে। কামরুন্নাহার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মানুষ কম, তাই ঝামেলা কম। এই যে নৌকায় ঘুরলাম। নিরিবিলি গল্প করতে পারছি, সেটা হতো না। মানুষের চাপে গত বছর ভালো বসার জায়গা পাইনি। এবার যেখানে খুশি সেখানে ঘুরছি।’

এনএইচ/ইএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।