বাঘ সংরক্ষণে ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ ও ভারতের বাঘ ও চিতাবাঘের আবাসস্থল সংযুক্ত থাকায় ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এসব প্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
রোববার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভারতের কর্ণাটকের মহীশুর ইউনিভার্সিটিতে প্রকল্প টাইগারের ৫০ বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত বাঘ সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী একথা বলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মো. শাহাব উদ্দিন আরও বলেন ‘পৃথিবীতে সাতটি বড় বিড়াল প্রজাতি এবং বাংলাদেশে দুটি সংকটাপন্ন বড় বিড়াল প্রজাতির সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা এই প্রজাতিগুলোর আশ্রিত দেশগুলোর সদস্যপদ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাটস অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) গঠনে নীতিগতভাবে সমর্থন করি।’
আরও পড়ুন> সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে, ধারণা বনবিভাগের
পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণে শূন্য শিকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে। এটা আশার বিষয় যে বাঘের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, অন্যান্য বন্য প্রজাতিসহ আমাদের জাতীয় প্রাণী সংরক্ষণে সরকার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা ও উন্নতির জন্য সংবিধানে একটি নতুন ধারা; বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এ বাঘ শিকারের জন্য ২ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ মিলিয়ন টাকা জরিমানার বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সরকার জাতীয় বাঘ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি (২০২২ থেকে ২০৩৪) এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭) বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাঘ জরিপ, জেনেটিক অধ্যয়ন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ড্রোন দ্বারা স্মার্ট টহল ও পর্যবেক্ষণ, সুন্দরবন ও বেঙ্গল টাইগারের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি।
তিনি আরও বলেন, সহযোগিতা জোরদারকরণের মাধ্যমে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণের জন্য ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত একটি প্রটোকলে স্বাক্ষর করেছে।
আরও পড়ুন> এক ‘বাঘ-বিধবা’র দুঃখগাথা
মন্ত্রী বলেন, বাঘ-মানব সংঘাত কমাতে আমাদের সরকার গ্রাম টাইগার রেসপন্স টিম, কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ গঠন করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করেছে। বন্যপ্রাণীর দ্বারা ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১-এ বাঘের দ্বারা নিহত ব্যক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা রোধে বন বিভাগের অধীনে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে শেখ কামাল বন্যপ্রাণী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যা উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সরকারি উদ্যোগ সফল করা সহজ হবে।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বের সাতটি বড় বিড়াল প্রজাতির প্রাণী যেমন বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতা, পুমা, জাগুয়ার এবং চিতার সুরক্ষা এবং সংরক্ষণের ওপর ফোকাস করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাটস অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে এসব প্রজাতিকে আশ্রয় দেওয়া দেশসমূহের পরিবেশ সংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন।
আইএইচআর/এসএনআর/জেআইএম