ফ্লাইটে যেতে পারবেন না বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন জাবেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০০ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

নাম তার জাবেদ। কাজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়। তবে এটা কোনো সাধারণ কাজ নয়। কাজ হলো প্রতারণা করা। টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এজন্য তিনি ব্যবহার করতেন নানা কৌশল। এরমধ্যে রয়েছে- ডলার করে দেওয়ার কথা বলে যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া। আবার কখনো সুকৌশলে যাত্রীর পাসপোর্ট ও ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে পালিয়ে যাওয়া। এছাড়া ফ্লাইট মিস করেছে, নতুন করে টিকিট কাটতে হবে এই কথা বলে যাত্রীর আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়েও নিতেন জাবেদ।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে ডলার ভাঙানোর ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করতেন জাবেদ

এসব প্রতারণার অভিযোগে জাবেদকে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। বুধবার (২৬ এপ্রিল) এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। কখনো ডলার করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া, যাত্রীর পাসপোর্ট ও ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে পালিয়ে যাওয়া, আবার ফ্লাইটে যেতে পারবেন না বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে যাত্রীর আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এই জাবেদ।

এপিবিএনের এই কর্মকর্তা জানান, এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে জাবেদ অন্তত চারবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু জেল থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে আবার যুক্ত হন। নিজের নামে বিমানবন্দর কেন্দ্রিক একটি চক্রও গড়ে তুলেছেন জাবেদ। তার এই চক্রে ৫-৬ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। যাদের বিভিন্ন সময় এয়ারপোর্ট এপিবিএন গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন: ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে খোয়া যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা

এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ৩ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরগামী যাত্রী মো. শফিকুল ইসলাম ফ্লাইট মিস করেছেন বলে তার স্বজনকে ফোন করে জানান জাবেদ। যাত্রীকে নতুন করে টিকিট করে দিতে হবে বলে ফোনে যাত্রীর কণ্ঠ নকল করে কান্নাকাটি করেন জাবেদ।

jabed

এসময় যাত্রীকে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হলে ৬৮ হাজার টাকা দিয়ে নতুন করে সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট করতে হবে বলে ওই যাত্রীর স্বজনকে জানান জাবেদ। কোনো উপায় না দেখে যাত্রীর স্বজনরা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৩৭ হাজার ৪৫০, ২৮ হাজার ১০০ টাকাসহ মোট ৬৫ হাজার ৫৫০ টাকা জাবেদকে পাঠান।

অথচ তখন যাত্রী শফিকুল ইসলাম সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইটে উড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে তার ফোন ছিল বন্ধ। আর ফোন বন্ধ থাকায় যাত্রীর স্বজনরাও সন্দেহ না করে টিকিটের জন্য জাবেদের কথামতো টাকা দেন।

আরও পড়ুন: জাল ভিসার প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে

জিয়াউল হক আরও জানান, যাত্রীর স্বজনরা টাকা পাঠানোর পরপরই জাবেদ তার ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেন। এরপর ভুক্তভোগী এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কাছে অভিযোগ করলে তদন্তের মাধ্যমে জাবেদকে চিহ্নিত করা হয়। পরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা দল। আর আগেও জাবেদকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার করেছে এপিবিএন।

বিমানবন্দরে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেট জাবেদকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেন। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি বের হয়ে আসেন এবং একই ধরনের প্রতারণার কাজে আবারও যুক্ত হন।

জাবেদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান এপিবিএনের কর্মকর্তা।

টিটি/জেডএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।