অন্যের সন্তান নিজের বলে পরিচয়, নানা নাটকীয়তায় আসল মা-বাবার খোঁজ
বিয়ের তিন মাসের মধ্যে গর্ভবতীর নাটক সাজান মোছা. হালিমা বেগম (৪১)। তার মায়ের গ্রামের বাড়িতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় বলে সাভারে থাকা তার স্বামীকে জানান হালিমা। সন্তানের নাম রাখা হয় রিয়াদুস সালেহীন হামদান। হালিমা তার স্বামী এইচ এম দেলোয়ার হোসেনের (৬৩) সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে ভাগ নেওয়ার জন্য অন্যের সন্তানকে তার স্বামীর ঔরসজাত সন্তান হিসেবে পরিচিত করেন। তবে শিশুটি একটু বড় হলে চেহারার মিল না দেখে সন্দেহ হয় দেলোয়ারের।
অন্যের সন্তান নিজের বলে দাবি করায় ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত গড়ায় তালাকে। পরে পুলিশ এ ঘটনার সত্য উদঘাটন করে। সাত মাস বয়সী শিশু রিয়াদুস সালেহীন হামদান ফিরেছে তার আসল মা-বাবার কোলে।
সোমবার (১৫ মে) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর এইচ এম দেলোয়ার হোসেন তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর মোছা. হালিমা বেগমকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী হালিমা বেগম তার মায়ের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। বিয়ের ৩ মাস পর হালিমা তার মায়ের বাড়িতে অবস্থানকালে তার স্বামীকে জানায় তিনি গর্ভবতী।
পরে হালিমার গর্ভের সন্তান গত বছরের ৪ আগস্ট তার মায়ের বাড়িতে ভূমিষ্ঠ হয় বলে তার স্বামীকে জানালে তার নাম রাখা হয় রিয়াদুস সালেহীন হামদান। পরে গত বছরের ৭ অক্টোবর শিশু সন্তান নিয়ে একাই তার স্বামীর বাড়ি সাভারের তালবাগে ফিরে আসেন হামিলা।

এসপি আসাদুজ্জামান বলেন, মূলত এ সন্তানের মাধ্যমে হালিমা তার স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে ভাগ নেওয়ার জন্য অন্য জনের সন্তান তার স্বামীর ঔরসজাত সন্তান হিসেবে পরিচিত করান।
তবে ছোট্ট শিশু রিয়াদুস সালেহীন একটু বড় হলে তার চেহারা দেলোয়ারের মনে সন্দেহের উদয় হয়। এ সন্তান তার ঔরসের সন্তান নয় বলে দেলোয়ার দাবি করেন।
এক পর্যায়ে দেলোয়ার তার স্ত্রী হালিমাকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হালিমা স্বীকার করে নেন আসল ঘটনা। শিশু রিয়াদুস তার গর্ভের সন্তান নয় এবং সে শিশুটিকে কৌশলে নওগাঁর মহাদেবপুর থানা এলাকা থেকে এনেছেন।
বিষয়টি দেলোয়ার জানতে পেরে গত ১২ মে হালিমাকে তালাক দিয়ে বিষয়টি সাভার মডেল থানায় অবহিত করেন। পরে থানা পুলিশ বিষয়টি সরেজমিন অনুসন্ধান করে ও হালিমার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে শিশুটির আসল মা-বাবা বগুড়ার শান্তাহার উপজেলা এলাকায় বসবাস করছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আরও বলেন, বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য তথ্য-প্রযুক্তি, স্থানীয় লোকজন এবং বগুড়া জেলা পুলিশের সহায়তায় সাভার মডেল থানা পুলিশ ওই স্থানে যায়। সেখানে গিয়ে সাভার থানা পুলিশ শিশুটির আসল মা-বাবার সন্ধান পায়।
শিশুটির আসল মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা হতদরিদ্র অসচ্ছল ও অসহায়ের কারণে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবর নিতে পারেনি। এছাড়াও শিশুটির আসল মা অসুস্থ থাকায় কোনো প্রকার আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করতে পারেনি।
পরবর্তীতে শিশুটির আসল মা-বাবাকে নিয়ে সাভার মডেল থানায় এলে আজ সোমবার শিশু রিয়াদুস সালেহীন হামদানকে তার আসল মা-বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করে পুলিশ।
টিটি/এমআইএইচএস/জিকেএস