মাধবকুণ্ড এখন পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গন
পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গন হয়ে গেছে মাধবকুণ্ড। ঝর্ণাধারার বিচিত্ররূপের ছোঁয়া পেতে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান এখানে। ঝর্ণাধারার বিচিত্ররূপ দেখে অনেকেই বলেছেন, এমন জলপ্রপাত জগতের অনেক সৌন্দর্যকে হার মানায়।
স্বরেজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গাসাড়া নামক পাহাড়ি ছড়ার প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে যুগ যুগ ধরে গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম জলরাশি। এ ঝর্ণা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে তীর্থস্থান হিসেবেও সুপরিচিত। ঝর্ণাতলে দাঁড়িয়ে যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন কবি হয়ে ওঠে।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ পাহাড়ি ঝর্ণাধারা ও তার চারপাশের অপরূপ সবুজ প্রকৃতি সব শ্রেণির পর্যটকের হৃদয় হরণ করে। সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালতলী থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মাধবকুণ্ড। এ ঝর্ণাধারায় সৃষ্ট কুণ্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে শিবমন্দির। এ শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর চৈত্রের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে স্নানে আসেন শত শত পূণ্যার্থী।
এখানে পাহাড়ের গায়ে ঘন গাছপালা, পাথরের সাজ, সুনিপুণ মাটির স্তরবিন্যাস, বৈচিত্র্যময় শিলাগঠন, পাহাড়ের উঁচু থেকে ঝিরিঝিরি ছন্দে নেমে আসে পানির রেশমি লহর। পানি পড়ার স্থানটিতে তৈরি হয়েছে একটি ছোট্ট লেক। সেখানে রয়েছে নৌকার ব্যবস্থা।
ঝর্ণার একেবারে কাছে যাওয়া মোটেই সমীচীন নয়, যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। কেননা লেকটি গভীর। এখানে একটানা ৩-৪ ঘণ্টা কাটানোর পর জলপ্রপাতের অনতিদূরেই পর্যটন কর্পোরেশনের ছোট রেস্ট হাউজে বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে যাওয়া আজিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরাসরি মাধবকুণ্ডে যাওয়ার কোনো পরিবহন নেই। বাসে মৌলভীবাজার নেমে সেখান থেকে বড়লেখার গাড়িতে করে কাঁঠালতলী নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় মাধবকুণ্ড পৌঁছেন। রিকশা ভাড়া ৮০ টাকা লেগেছে।
এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেটের ট্রেনে কুলাউড়া জংশনে নামতে হয়। সেখান থেকে বড়লেখাগামী বাসে চড়ে কাঁঠালতলী আসতে হয়। অথবা রেলস্টেশন থেকে সরাসরি অটোরিকশা ভাড়া করেও যাওয়া যায়।
আরএম/বিএ