কপ২৮
জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে ধনীরা
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই ঝুঁকি বড় সংকট তৈরি করছে। ফলে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। তবে জলবায়ুজনিত সমস্যা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্বের জন্য। এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য তহবিলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এবারের জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ২৮)।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া এ সম্মেলনে এরই মধ্যে তহবিল অনুমোদন করেছে তেলের অন্যতম বড় উৎপাদক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তাদের সঙ্গে এক হয়ে উন্নত আরও কয়েকটি দেশের তরফ থেকেও এমন সহায়তার ঘোষণা এসেছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো প্রথমদিনেই ৪২ কোটি ডলার তহবিল গরিব দেশগুলোর জন্য বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তহবিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে আছে, সম্মেলনের আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ১০ কোটি ডলার, যুক্তরাজ্য ৬ কোটি পাউন্ড, যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার এবং জাপান ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ২৪ কোটি ৫৩৯ লাখ ডলার এবং জার্মানি ১০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন> কপ২৮ সম্মেলন/ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে তহবিল বাড়ানোর তাগিদ
জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু কর্মকর্তা সাইমন ইমানুয়েল কারভিন স্টিয়েল বলেছেন, এবারের সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ক্ষয় ও ক্ষতিকে (লস অ্যান্ড ডেমেজ) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তহবিলে অর্থায়নসহ আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। এখান থেকে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। উন্নত দেশগুলো বেশ কয়েক বছর আগে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গরিব দেশগুলোকে এই অর্থ দেওয়া হবে তাদের অভিযোজন ও সবুজ জ্বালানির উন্নয়নে। আমরা আশা করছি, এবছর আমরা এই প্রতিশ্রুতির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবো।
তবে তহবিল গঠনে আরও সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক ডেলগেটস মার্ক স্যামুয়েল জাগো নিউজকে বলেন, তহবিল গঠনের কথা বার বার বলা হলেও সেটি পরিপূর্ণ হচ্ছে না। অনেক দেশ এখনো তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। সুতরাং প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ থাকতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য এখনই সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে উন্নত দেশগুলোকে। অন্যথায় বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

কপ-২৮ এর সভাপতি করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের প্রধান নির্বাহী সুলতান আল-জাবেরকে। তিনি বলেছেন, এই তহবিল জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় কপ২৮ এর ইতিবাচক গতির সংকেত দিচ্ছে। এখনই সময় সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সংকট সমাধানের। আমরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ঘোষিত তহবিলের অর্থ এক বছরের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করবো। তবে এই তহবিল আরও বাড়তে হবে। কারণ এই তহবিল অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকায় ভূমিকা রাখতে পারে।
সমষ্টিগত জলবায়ু নিয়ে কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ২৮। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) থেকে তেলের অন্যতম বড় উৎপাদক দেশ দুবাইয়ে শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলন চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
৭০ হাজারের বেশি প্রতিনিধির অংশগ্রহণে দুই সপ্তাহব্যাপী এবারের অনুষ্ঠানটিকে বৃহত্তম জলবায়ু সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ব্রিটেনের রাজা চার্লসও রয়েছেন। এছাড়াও ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, মিশর, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধানসহ কয়েক ডজন বিশ্ব নেতা রয়েছেন। তবে বিশ্বের দুই বৃহত্তম বায়ুদূষণকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের রাষ্ট্রপতিরা সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না।
আইএইচআর/এসএনআর/জিকেএস