গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০০ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৮

রান্নার জন্য অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি গ্যাস সংকটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার মানুষজন। গ্যাস না থাকায় অনেকের রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে না। তাই পরিবারের জন্য রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে গ্যাস সংকট দূর করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জাগো নিউজের এ সংক্রান্ত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সকাল থেকেই গ্যাস থাকে না। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে হতে বিকেল গড়ায়। রাজধানীর গ্যাস সংকট অনেক আগের বিষয়। তবে হঠাৎ করেই তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে রাজধানীর অনেক এলাকার মানুষ। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের সংকট বাড়ছে। চুলা জ্বলছে টিম টিম করে। অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে না বললেই চলে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংকট তীব্র। ফলে বাধ্য হয়ে রাতেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের রান্নার কাজ সেরে নিতে হচ্ছে।

মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকা এই তিন অঞ্চলে গ্যাসের সংকট সবচেয়ে বেশি। এছাড়া মোহাম্মদপুর, বছিলা, আদাবর, পশ্চিম আগারগাঁও, মিরপুরের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল, উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, বনশ্রী,রামপুরা, মগবাজার,মুগদা, মান্ডা,পশ্চিম ধানমন্ডি, লালবাগ, সোবহানবাগ, পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

গ্যাস মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। অনেকদিন ধরেই এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে যুক্তিতর্ক চলছে। রান্না-বান্নার কাজসহ যানবাহনের জ্বালানি, শিল্পকারখানা এমনকি বিদ্যুত উৎপাদনেও গ্যাসের ব্যবহার হচ্ছে।

গ্যাস প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে কী পরিমাণ গ্যাস মজুদ আছে সেটিও এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে বলতে পারছেন না জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারেরও সম্ভাবনা কতটুকু এ নিয়েও পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে মজুদ গ্যাসে কতদিন চলবে সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অথচ গ্যাস ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। একই গ্যাস আমরা ব্যবহার করছি রান্না-বান্নার কাজে। প্রাইভেট পরিবহন থেকে শুরু করে পাবলিক পরিবহন চলছে গ্যাসে। বিদ্যুত উৎপাদনের মতো বড় কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে গ্যাস। একদিকে ব্যবহার করতে গিয়ে অন্যদিকে টান পড়ছে। তাছাড়া এখনই যদি জ্বালানি নীতি ঠিক করা না হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে যখন গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসবে তখন কিভাবে সবকিছু চলবে সেটি কি ভেবে দেখা হয়েছে? মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ আমরা রান্না করে শেষ করবো নাকি ধনীদের প্রাইভেটকারের জ্বালানি হবে এই গ্যাস। গ্যাসে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি দেয়া হয়। এই ভর্তুকির ফল যাতে এদেশের মালিক সাধারণ মানুষ পায় সেটি নিশ্চিত করাটা অত্যন্ত জরুরি।

জ্বালানি নীতিমালাতো করতেই হবে। তারও আগে নিশ্চিত করতে হবে গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে আবাসিক ভবনে এখন যে গ্যাস সংকট চলছে সেটি দূর করতে হবে সবার আগে। গ্যাসের ক্ষেত্রে রেশনিং এর কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেটি করতে হবে। বন্ধ করতে হবে অপচয়, অপব্যবহার। এছাড়া দুর্নীতির যে অভিযোগ এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক এই সম্পদের সুফল যাতে সবাই পায় নিশ্চিত করতে হবে সেটিও।

এইচআর/আরআইপি

‘জ্বালানি নীতিমালাতো করতেই হবে। তারও আগে নিশ্চিত করতে হবে গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।’

আপনার মতামত লিখুন :