এক কোটি ভোটার বিহীন নির্বাচন!

তানভীর আহমেদ
তানভীর আহমেদ তানভীর আহমেদ , লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক
প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশী নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ, যাদেরকে আমরা প্রবাসী বলে সম্বোধন করি। মাথা গুনে হিসাব করলে এই সংখ্যা দেড় কোটির কম হবে না। তবুও আলোচনার খাতিরে ধরে নিলাম সংখ্যাটা ১ কোটি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ১ কোটি নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি তারা নিজ দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। প্রাণের এই দাবিটি বাস্তবায়নের জন্য প্রবাসীদের মামলা পর্যন্ত করতে হয়েছে।

১৯৯৮ সালে দেশের উচ্চ আদালত প্রদত্ত সেই মামলার রায়ে বলা হয়েছে, 'প্রবাসীদের ভোট দিতে সাংবিধানিক কোন বাধা নেই'। বিগত ২০ বছরে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল একাধিকবার ক্ষমতায় আসলেও আদালতের রায় কার্যকরের ব্যাপারে কোন রাজনৈতিক দলের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসেইন ও ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন ইংল্যান্ডে এসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে মতবিনিময় করেন। সভা হয়েছিল লন্ডন, বার্মিংহ্যাম ও ম্যানচেস্টার শহরে। সেই সময়ে ছহুল হোসেইনের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলাম, তিনি আমার এক প্রশ্নের জবাবে অন রেকর্ড বলেছিলেন, প্রবাসীরা ২০০৮ সালের নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন।

সেই সফরের সময় প্রবাসীরা ভোট দিতে চায় কিনা, এ বিষয়ে চ্যানেল এস-এর পক্ষ থেকে একটি জনমত জরিপ করা হয়েছিল । সেই জরিপে ৯৭% ব্রিটিশ বাংলাদেশী নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। তারপর কেটে গেছে পাক্কা দশ বছর। যুক্তরাজ্যের ৭ লক্ষ ভোটারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সরকার যে একেবারেই কোন উদ্যোগ নেয়নি সেকথা বলা যাবে না।

২০১৭ সালে ২৬ ডিসেম্বর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, ইটালি, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তে। সেই প্রজ্ঞাপনের পর এখনও পর্যন্ত কোন একজন প্রবাসী তার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

চ্যানেল এস টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি ২০১৭ সালে বাংলাদেশে গিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করে এসেছিলেন। সর্বশেষ খবর হলো, জনাব চৌধুরী ২০১৯ সালে তার নাম নিবন্ধন করা হবে এমন নিশ্চয়তা পেয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য প্রবাসীদের ভোটাধিকারের জন্য প্রাথমিকভাবে যে পাঁচটি দেশকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সেই তালিকায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা নেই!

প্রবাসীদের ভোটাধিকার আন্দোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ ইউকে'র প্রেসিডেন্ট রহমত আলী। আক্ষেপ করে আমাকে বলেন, ' শুধুমাত্র রেমিটেন্সই নয়, বিলেত প্রবাসীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের হাতে ৪ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড তুলে দিয়েছিলেন এই ব্রিটেন প্রবাসি বাংলাদেশীরা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের কোন নিজস্ব বিমান ছিল না, ব্রিটিশ বাংলাদেশিরাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জন্য প্রথম বিমানটি কিনে দিয়েছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় এই প্রবাসীরাই বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে ব্রিটেন থেকে কুইন্স কাউন্সিলর পাঠিয়েছিলেন। এতো অবদানের পরও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিতে অগ্রাধিকারে নেই যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা।'

কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট কে এম আবু তাহের চৌধুরী বিগত বিশ বছর ধরে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করছেন। তিনি মনে করেন, 'রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকারের মধ্যে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি রয়েছে যারা চায় না প্রবাসীদের ভোটাধিকারের দাবি বাস্তবায়ন হোক, আবার এক শ্রেণির আমলা বিদেশী দূতাবাসে তাদের নিজেদের দাপ্তরিক কাজ বেড়ে যাবে এই কারণে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না'।

প্রবাসীদের ভোটাধিকারের নাম নিবন্ধনের তালিকায় কেন ব্রিটেন প্রবাসীদের নাম নেই এ বিষয়ে গত ২৮ তারিখে চ্যালেন এস টেলিভিশন লন্ডন ও ২৯ নভেম্বর একাত্তর টেলিভিশনে একটি সংবাদ করেছিলাম। তার পর দিনই ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন প্রবাসীরা ডাক যোগে ভোট দিতে পারবেন এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ঘুরে সেই প্রজ্ঞাপন লন্ডনে আসে ৭ দিন পর।

বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন সেটি তাদের ওয়েব সাইটে দিলেও গত ১২ ডিসেম্বর নব নিযুক্ত হাই কমিশনার সাইদা মুনা'র সাথে গণমাধ্যমের সৌজন্য বৈঠককালে চূড়ান্তভাবে আমরা জানতে পারলাম প্রবাসীরা তাদের নিজের নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে ডাক যোগে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ করে ডাক যোগে ভোট দিতে পারবেন।

গণমাধ্যমের সাথে সেই বৈঠকের পর ১৪ ডিসেম্বর হাই কমিশন তাদের ওয়েব সাইটে ৬৪ জেলার রিটার্নিং অফিসারের ইমেইল ও টেলিফোন নম্বর যুক্ত করে একটি তালিকা প্রকাশ করে। প্রবাসীরা যেন সেই তালিকা থেকে তাদের নিজ নিজ এলাকার রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যলট পেপার সংগ্রহ করার জন্য আবেদন করেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচনের আছে বাকি মাত্র কয়েক দিন। লন্ডন থেকে বাংলাদেশে চিঠি যেতে সময় লাগে কমপক্ষে ৭ দিন রির্টানিং অফিসার ব্যালট পেপার লন্ডনে পাঠাতে সময় নেবেন আরো ৭ দিন। প্রবাসীরা ভোট দিয়ে সেই ব্যালট পেপার ডাক যোগে বাংলাদেশে পৌঁছাতে সময় দরকার আরো ৭ দিন। মোট মিলে পাক্কা ২১ দিনের হিসাব।

সবচেয় বড় শুভঙ্করের ফাঁকিটা হলো প্রবাসীরা ব্যালট পেপারের জন্য আবেদন করলেও ব্যালট পেপার পাবেন না, কারণ প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক আইডি কার্ডও নেই ভোটার হিসেবে তাদের তালিকায় নামও নেই। এখন এই কয় দিনে ভোটার হিসেবে তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করা আর ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে ডাক যোগে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন অলিক কল্পনা মাত্র।

তবে ১ কোটি প্রবাসী ভোটারকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ভিন্ন সমীকরণও থাকতে পারে। বাংলাদেশের ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ, রেজিষ্টার্ড ভোটার ছিল ৮ কোটি। সেই অনুপাতে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিলো ৫ কোটি ৬০ লাখ। ২০১৮ সালে রেজিষ্টার্ড ভোটার যদি ৮ কোটির কিছু বেশিও হয় সেই অনুপাতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৬ কোটি ভোটারের ভোট প্রদান করার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রবাসী ভোটার যদি এক কোটি ১৭ লাখ হয়, সেই অনুপাতে ৭০% ভোট গৃহীত হলে প্রায় ১ কোটি ভোটার যোগ হবে বাংলাদেশের মূল ৬ কোটি ভোটারের সাথে। তাহলে বাংলাদেশে মোট কাস্ট হওয়া ভোট হবে ৭ কোটি। অর্থাৎ মোট কাস্ট হওয়া ভোটের ১৪.৫ শতাংশ ভোটারই প্রবাসী। প্রতিটি আসনে এই ১৪.৫ শতাংশ ভোট যে কোন প্রার্থীর জয় পরাজয় নির্ধারণে নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে। ভোটের রাজনীতিতে প্রবাসীর ভোটই বদলে দিতে পারে যে কোন আসনের হিসাব নিকাশ। এই ভয়ের কারণে প্রবাসী ভোট ইস্যুতেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে উভয় রাজনৈতিক দলের নীতি নির্ধারকরা।

জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দিলে তাকে ভোটের অধিকারও দিতে হবে। যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, বিশেষ করে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে একথা ঠিক ১ কোটি ভোটার কোনভাবেই নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব নয়।

ব্রিটেনের নাগরিকরা তিন প্রক্রিয়ায় ভোট দান করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। সরাসরি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে, ডাক যোগে ভোট (পোস্টাল ব্যালট) প্রদান করে ও ভোটারের পছন্দের ব্যক্তির মাধ্যমে (প্রক্সি ভোট)। বাংলাদেশের পেক্ষাপট বিবেচনা করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট গ্রহণ অধিকতর যৌক্তিক। বিদেশী দূতাবাসে থাকা বাংলাদেশের সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী বা সোনালী ব্যাংকের বিদেশ শাখায় কর্মরত কর্মকর্তারা ডাক যোগে পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারলে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে না পারার কোন যুক্তিই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

নির্বাচন কমিশন যেমন নির্বাচনের সময় বাড়তি জনবল নিয়োগ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে, তেমনি বিদেশী দূতাবাসে নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধন ও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করতে পারে বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলো। তবে একথা মনে রাখতে হবে, বিদেশী দূতাবাসগুলোতে কর্মচারী কর্মকর্তারা একটি ছকবাধা নিয়মে কাজ করেন, তাদের লোকবলও থাকে কম। তাদের ওপর এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চাপিয়ে না দিয়ে বরং একটি পৃথক প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই কাজটিতে হাত দিতে হবে।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার সম্পর্কিত আদালতের রায়টি যেহেতু ২০ বছরেও কার্যকর করা যায়নি, প্রয়োজন হলে আগামী নির্বাচনকে মাথায় রেখে এই প্রকল্পটির কাজে হাত দিতে পারে নতুন সরকার। এক্ষেত্রে খরচ কমাতে ও দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন চাইলে সরাসরি বাংলাদেশ থেকেও অনলাইনে প্রাবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কাজটি করতে পারে।

প্রবাসীরা যেন তাদের পাসপোর্টের কপি জমা দিয়ে নিবন্ধনের কাজটি কোন প্রকার জটিলতা ছাড়াই করতে পারেন সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে যেভাবে বিদেশে থাকা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীরা পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন ঠিক একই প্রক্রিয়ায় নাগরিক পরিচয়পত্র প্রদান করে ভোটার নিবন্ধন করা মোটেও জটিল প্রক্রিয়া নয়। তবে এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময় নিয়ে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।

গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত যদি হয় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট জনপ্রতিনিধি নির্বাচন, তাহলে অর্থবহ গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সাধারণ জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। প্রবাসীদের নাগরিক বলে স্বীকৃতি দিলে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকারটুকুও নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু প্রবাসীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে পাটিগণিত মিলাতে গেলে গণতন্ত্রে গোঁজামিল থেকে যাওয়াটাই বাস্তবতা। আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার দাবি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখবে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। একাত্তর টেলিভিশনের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি।

এইচআর/জেআইএম

প্রবাসীদের ভোটাধিকার সম্পর্কিত আদালতের রায়টি যেহেতু ২০ বছরেও কার্যকর করা যায়নি, প্রয়োজন হলে আগামী নির্বাচনকে মাথায় রেখে এই প্রকল্পটির কাজে হাত দিতে পারে নতুন সরকার। এক্ষেত্রে খরচ কমাতে ও দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন চাইলে সরাসরি বাংলাদেশ থেকেও অনলাইনে প্রাবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কাজটি করতে পারে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]