গণতন্ত্র

আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও

ড. হারুন রশীদ
ড. হারুন রশীদ ড. হারুন রশীদ , ডেপুটি এডিটর (জাগো নিউজ)
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ০২ অক্টোবর ২০২২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন তার গেটিসবার্গ বক্তৃতায় গণতন্ত্র সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলেন সেটিকেই এখন পর্যন্ত সর্বজন গ্রাহ্য গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বরে দুই মিনিটকাল স্থায়ী প্রদত্ত বক্তৃতায় তিনি গণতন্ত্র বলতে ‘জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত সরকার এবং জনগণের স্বার্থে পরিচালিত সরকার’ কে বোঝান। (অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল)।

এরপর বহু দেশে বহু ধরনের সরকার ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। গণতন্ত্রের সংজ্ঞায়ও এসেছে নানা পরিবর্তন। সেনা শাসকরাও জোর করে ক্ষমতা দখল করে নিজেদের গণতান্ত্রিক সরকার বলে দাবি করেছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলোয়ও অনেক সময় অনির্বাচিত সরকার, ক্ষমতাদখলকারী সরকারকে সমর্থন করেছে তাদের হীন স্বার্থে। বলা যায় বিশ্ব এখন ক্ষমতাশালীর পক্ষে, সেটা যেভাবেই হোক না কেন।

আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে গণতন্ত্র বলতে আমরা বুঝি মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতাকে। তাই যেমন ইচ্ছা কথা বলতে পারাই এখানে গণতন্ত্র। কথার ফুলঝুড়ি ফোটাতে এখানে কারও কোনো জুড়ি নেই। টিভির টকশো থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গাঁয়ের গলির চা দোকানেও কথায় কথায় রাজা উজির মারা চলে। সুতরাং কাজীর গরু গোয়ালে না থাকলেও কেতাবে ঠিকই আছে।

আমাদের দেশে সেই কেতাবি গণতন্ত্র নিয়ে এখন আমরা আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছি। এখানে জোটের রাজনীতি আর ভোটের রাজনীতিই প্রাধান্য পায় বেশি। জনস্বার্থ কতোটা সংরক্ষিত হলো সেদিকে কারও কোনো নজর থাকে না। যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়াটাই মুখ্য ব্যাপার।

এ কথা ঠিক, রাজনৈতিক দলগুলো এনজিও নয়। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই রাজনীতি করে। তাই ক্ষমতায় যাওয়ার মধ্যে কিংবা যেতে চাওয়ার মধ্যে দোষের কিছু নেই। কিন্তু সেখানে জনমানুষকেই সবার আগে স্থান দিতে হবে। এমনকি রাজনৈতিক দল চালাতে গিয়েও দিতে হবে গণতন্ত্রের পরিচয়। দলেই যদি গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকে তাহলে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা হবে কী করে?

রাজনৈতিক দলগুলোই তো দেশ চালায়। তাদের সম্মিলিত আচরণই তো শাসনব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। অনেক সময় এমন সব কথাবার্তা বলা হয় যা তার বা তাদের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতেই একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরস্পরের প্রতি আস্থা বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সেখানে গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। নেতানেত্রীদের সম্মিলিত আচরণই আসলে সেই সমাজ বা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিকশিত করতে সহায়তা করে। কাজেই নেতা বা নেত্রীর একক আচরণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নেতানেত্রীদের আচরণ দ্বারা অন্যরাও উৎসাহিত হন। সেটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক যাই হোক না কেন। এ জন্য তাদের আচরণের মধ্যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় থাকতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরমতসহিষ্ণুতা এবং পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাষায়ও রয়েছে শিষ্টাচারের অভাব। কে কার চেয়ে বড় কিংবা কাকে কীভাবে ছোট করা যায় সব সময় এই ধরনের অসহিষ্ণু মানসিকতার বহির্প্রকাশ দেখা যায় রাজনীতিবিদদের কথাবার্তায়। কিন্তু গণতান্ত্রিক একটি সমাজব্যবস্থায় এ ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও মানসিকতা কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয়।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অপরের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই আসলে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চর্চা যত বাড়বে গণতন্ত্রের ভিত্তি ততই মজবুত হবে। প্রসঙ্গত, ভলতেয়ারের সেই বিখ্যাত উক্তির কথা স্মরণ করতে হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তোমার মতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য জীবনও দিতে পারি।’

গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এই ধরনের মানসিকতা প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক বৈরিতাপূর্ণ সমাজে বাকসংযম এবং তাতে শালীনতা রক্ষা একান্ত অপরিহার্য। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির কথাবার্তায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এমনটিই স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাঝে মধ্যেই এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে। এবং তা প্রায়শই ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি পর্যন্ত গিয়ে গড়ায়।

দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট নেতারা প্রায়ই একে অপরের প্রতি উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন। কথার ফানুস উড়িয়েই চমক সৃষ্টি করতে চান। জনসভায় কিংবা টিভি টকশোতে জনতার হাততালি কুড়াতে অনেকেই কথার লাগাম টানতে চান না। এতে কেউ কৌতুক বোধ করেন, কেউ বা সস্তা আমোদও পান। কিন্তু বক্তার ব্যক্তিত্ব যে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেটি কি সংশ্লিষ্টরা বুঝতে অক্ষম?

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য হবে ধী শক্তিসম্পন্ন। মানুষজন বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তা থেকে শিখবে। জ্ঞানার্জন করবে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের মতো নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতি এখনও জাতিকে নতুন দিশা দেয়। তাই রাজনীতিবিদদের বক্তব্যে, কথাবার্তায়, আচার-আচরণে এমন বিষয় থাকা উচিত, যা অনুসরণযোগ্য, প্রেরণামূলক ও জনকল্যাণকর। অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল-এর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

দুই.
দেখতে দেখতে স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নানাভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুগেও এখন দেশ। মাতারবাড়িতে হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এছাড়া মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। কমেছে বাল্যবিয়ে। বেড়েছে গড় আয়ু। যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও এসেছে উন্নয়ন। উড়াল সেতু দৃশ্যমান এক উন্নয়ন বাস্তবতা। মেট্রো রেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়ও দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ফাইভজির যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশ।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করেছে বাংলাদেশ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলছে। রেলসেতুর কাজও চলমান। শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম দিন প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হচ্ছে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও রাজনৈতিক অনৈক্য, সংঘাত, সহিংসতা, সন্দেহ, অবিশ্বাস এক প্রধান সমস্যা হিসেবেই এখানে রয়ে গেছে। রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির সহাবস্থান সম্ভব নয় বলেই এই সংকট দূর হচ্ছে না- এমনটিই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া জঙ্গিবাদও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বারবার। এসব সমস্যা উড়িয়ে একটি আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের পৌঁছাতেই হবে। তবেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ, এ অর্জন ধরে রাখতে হবে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটের মূলে আছে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে আস্থাহীনতা। সেটা জাতীয় নির্বাচনই হোক আর স্থানীয় নির্বাচনই হোক। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে কিংবা কার অধীনে হবে- এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছে না। এ অবস্থায় মনে রাখতে হবে, যখন সংকটের মূলে নির্বাচনব্যবস্থা তখন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও জাতীয় নির্বাচন জনপ্রত্যাশার মূলে।

এরই মধ্যে সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নতুন একটি নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে। তার নেতৃত্বেই আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হবে। সংবিধানে বর্ণিত আইনের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রথম সিইসি হচ্ছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল, যার নেতৃত্বে গঠন করে দেওয়া হয়েছে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিইসি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা না পান তবে তাকে নিয়েও ‘ইমেজ সংকট’ হতে পারে। অতীতের দুটি নির্বাচন কমিশনের ইমেজ সংকট আছে, সেটা কাটাতে কী করবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইমেজ সংকট আমাকে নিয়েও হতে পারে। আমি যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের দলগুলোর সহযোগিতা না পাই, নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূল না হলে আপনারা আমাকে দায়ী করবেন। আমাদের চেয়ে অনেক বড় হচ্ছে রাজনৈতিক দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি মনে করে নির্বাচন কমিশন সুন্দর নির্বাচন করিয়ে দেবে, তাহলে ভুল-ভ্রমাত্মক ধারণা হবে। তাদের সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। তারা আমার কাছে সহযোগিতা চায়, আমিও সহযোগিতা চাই।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘জোরের সাথে বলব- সব দোষ নির্বাচন কমিশনকে দিলে আমি গ্রহণ করব না। রাজনৈতিক দলগুলোর রোল আছে, পুলিশ, আনসার, র‌্যাবকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি ওদের কমান্ড করব না। আমি এসপিকে বদলি করতে পারব না। আমি কমান্ড করলে কেউ রাইফেল নিয়ে দৌড়াবে না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার যথার্থই বলেছেন। আসলে সবাই কমিশনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়। কেউ নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে আগ্রহী নন। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য অনেকগুলো নিয়ামক কাজ করে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সমর্থক, ভোটার, স্থানীয় প্রশাসন- সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়া সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেও আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।

গণতন্ত্র সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মতামত হচ্ছে, “গণতন্ত্র বলতে কোনো জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোনো সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিক বা সদস্যের সমান ভোটাধিকার থাকে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরির ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ‘গণতন্ত্র’ পরিভাষাটি সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হলেও অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।”

দুঃখজনক হচ্ছে, আমরা কেবল অন্যের কাছে বিশেষ করে সরকারের কাছে গণতন্ত্র চাই। কিন্তু নিজেরা আচরণের কোনো পরিবর্তন করি না। যে যেখানে যতটুকু দায়িত্ব পেয়েছেন সেই চেয়ারকে তারা একক ক্ষমতার শীর্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালান। আর সম্মিলিত এই স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটে জাতীয় জীবনে। সুতরাং সাধুকে সাবধান হতে হবে, সর্বাগ্রে নিজেকে গণতান্ত্রিক হতে হবে, অন্যের মতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই সম্ভব একটি গণতান্ত্রিক বাতাবরণ তৈরি করা। কথায় বলে আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।
[email protected]

এইচআর/ফারুক/এমএস

দুঃখজনক হচ্ছে, আমরা কেবল অন্যের কাছে বিশেষ করে সরকারের কাছে গণতন্ত্র চাই। কিন্তু নিজেরা আচরণের কোনো পরিবর্তন করি না। যে যেখানে যতটুকু দায়িত্ব পেয়েছেন সেই চেয়ারকে তারা একক ক্ষমতার শীর্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালান। সম্মিলিত এই স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটে জাতীয় জীবনে। সুতরাং সাধুকে সাবধান হতে হবে, সর্বাগ্রে নিজেকে গণতান্ত্রিক হতে হবে, অন্যের মতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই সম্ভব একটি গণতান্ত্রিক বাতাবরণ তৈরি করা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।