এই দুর্ভোগ থেকে কবে মুক্তি?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
এই দুর্ভোগ থেকে কবে মুক্তি?

একটি নগরে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে রাজধানী শহর হবে সবদিক থেকেই উন্নততর। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা নানা দিক থেকেই এমন শোচনীয় অবস্থায় আছে যে একে এখন বাসঅযোগ্য নগরী বলা হচ্ছে। একটি দেশের রাজধানীর এই করুণ দশা মেনে নেয়া যায় না। তাই নগরজীবনকে স্বচ্ছন্দ, পরিবেশবান্ধব, টেকসই, উন্নয়নমুখি এবং পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর গড়ে উঠেছে একেবারেই অপরিকল্পিতভাবে। নাগরিক সুযোগ সুবিধার অনেক কিছুই এখানে অনুপস্থিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে বিশ্বের বসবাসের উপযোগিতার বিবেচনায় সবচেয়ে অযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার নাম ওঠে এসেছে। এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে! এই অবস্থা যে আমাদের জন্য গৌরবজনক নয় সেটি কি বলার অপেক্ষা রাখে। জরিপকারী ওই প্রতিষ্ঠান একটি শহরের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এর মান নির্ণয় করে। এরমধ্যে রয়েছে নগরীতে বসবাসের সুযোগ সুবিধা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ-সুবিধা, অপরাধের হার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোর গুণগতমান, পানি সরবরাহের মান, খাদ্য, পানীয়, ভোক্তাপণ্য এবং সেবা, সরকারি বাসগৃহের প্রাপ্যতা ইত্যাদি। এসব দিক থেকে ঢাকাসহ আমাদের নগরগুলোর কী অবস্থা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

রাজধানীর রাস্তঘাটগুলোর বেহাল দশা। একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার রাজধানীতে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ের গেটেও জমে পানি। এছাড়া রাজধানীর নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, আসাদ গেট, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় রিক্সা বা ভ্যানে করে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পানি পার হতে হয়। বৃষ্টির কারণে নানামাত্রিক দুর্ভোগে পড়ে রাজধানীবাসী। মুষলধারের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে গার্মেন্টস ও নিম্নআয়ের নারী ও পুরুষদের। ছাতা না নিয়ে বের হওয়ায় তাদের অধিকাংশই বৃষ্টিতে ভিজে যায়।এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীদেরও বাসের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে সময়মত অফিসে পৌঁছতে পারেননি।

এই দুর্ভোগ নতুন নয়। প্রশ্ন হচ্ছে কবে রাজধানীবাসী এই দুর্ভোগ থেকে মু্ক্তি পাবেন। ড্রেনেজ সমস্যা তো রয়েছেই বৃষ্টি এলে লোকজন একটু নিরাপদ জায়গায় দাঁড়াবে সেই ব্যবস্থাটুকু নেই। যাত্রী ছাউনির যথেষ্ট অভাব। যাও আছে তা দখলে। ফুটপাতেও দোকান। এ অবস্থা দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। অনেক হয়েছে। এবার নগরবাসী এই করুণদশা থেকে মুক্তি চায়।

জনসংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গাড়ি-ঘোড়া। কিন্তু সে তুলনায় রাস্তাঘাট, হাসপাতাল স্কুল-কলেজ, গ্যাস, বিদ্যুত, পানি ইত্যাদি নাগরিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। সবকিছুতেই পরিকল্পনাহীনতার ছাপ। অথচ রাজধানী ঢাকাই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। এজন্য পরিকল্পিত নগরায়ণের কোনো বিকল্প নেই। ঢাকা আবাসস্থল থেকে পরিণত হয়েছে বিরাট বাজারে। বস্তুত এই শহরের সুনির্দিষ্ট কোনো চরিত্র নেই। যত্রতত্র যে যেখানে পারছে যে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। এতে নগরী তার বিশিষ্টতা হারাচ্ছে। এক জগাখিচুড়ি অবস্থায় রাজধানীবাসী এখানে বাস করছে। ফলে অনেক নাগরিক সুবিধা থেকেই তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু ঢাকা নয় দেশের অন্যান্য শহরকেও পরিকল্পনামাফিক গড়ে তুলতে হবে। সুষম উন্নয়ন করতে হবে গ্রামেও। শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

এইচআর/জেআইএম

‘অনেক জায়গায় রিক্সা বা ভ্যানে করে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পানি পার হতে হয়।’