শীতের মধ্যেই চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণ
রবি মৌসুম শুরু হওয়ায় মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে চারা লাগানোর কাজ। সবুজ চারা আর কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে জেলার কৃষিজমি। ছবি: মো. সজল আলী
-
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে জেলার ৭ উপজেলায় ৪ হাজার ১৪৯ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ চাষ করে উৎপাদন হয় ৬৫ হাজার ৭৪০ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত ৪৩০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে।
-
কৃষকেরা দলবদ্ধভাবে জমি প্রস্তুত করে সারি ধরে চারা রোপণ করছেন। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ সার প্রয়োগ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত পানির সুবিধা থাকায় ভালো ফলনের আশায় আছেন তারা।
-
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, মানিকগঞ্জ জেলার মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এটি এখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। বাজারে চাহিদা ভালো থাকলেও চলতি মৌসুমে সার সংকট ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে ফলন ভালো হলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
-
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৭ হাজার ৮৬৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হালি বা চারা পেঁয়াজ ৪ হাজার ৪৫২ হেক্টর, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৩ হাজার ৩৮৬ হেক্টর এবং বীজ পেঁয়াজ ২৯ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে। এরই মধ্যে ৪৩০ হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও আবাদ শেষ হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ হওয়ায় এবার পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি।’