‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
পুরান ঢাকায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান/ছবি: আশিকুজ্জামান

‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পুরান ঢাকায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর জনসভায় বেকার ভাতা প্রসঙ্গে দলটির আমির আরও বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেবো না। রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও দেবো না। এতে বেকারত্ব কমবে না, আরও বাড়বে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেবো।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে, আর সেই লক্ষ্যেই যুবকদের এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জোহরের নামাজের পরে জনসভায় বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নিতে দেখা যায়।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দেন।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণরা মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এদের জন্য আমাদের মায়া হয়।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পেলে সারাদেশকে ফুলের মতো সাজানো হবে। যে দেশ নিয়ে মানুষ গর্ব করবে। আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করবো না, প্রশ্রয়ও দেবো না। নিশ্চয়ই মানুষ এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাকে ভোট দেবে।

তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে।

ভোট কারচুপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহারা দিতে হবে ভোটের। কেউ ভোট দখল করতে এলে প্রতিরোধ করতে হবে।

বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির দলীয় প্রতীক প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের হাতে তুলে দেন। একইসঙ্গে ঢাকা-৮ আসনের জোট প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতেও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নষ্ট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের রাজনীতি বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি সন্ত্রাসমুক্ত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনে জোটপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কারের চাবিকাঠি এখন জনগণের হাতে। গণভোটের রায়ের মাধ্যমেই অনেকের ভ্রান্ত স্বপ্ন ভেঙে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম চাঁদাবাজি শেষ হবে, কিন্তু তা হয়নি। দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিতে ভোট দিলে পরিত্রাণ মিলবে।

এই প্রার্থী হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে এনে রাষ্ট্রের গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন এবং ১২ তারিখে চাঁদাবাজ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, পুরান ঢাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে নানা দিক থেকে বঞ্চিত। এখানে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে।

তিনি জামায়াত আমিরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে ঢাকা-৬ আসনকে চাঁদাবাজমুক্ত করবেন। এই আশ্বাস চাই।

সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ বলেন, নতুন বাংলাদেশে গরিব ও বড়লোকের মধ্যে বিচারের কোনো বৈষম্য থাকবে না।

তিনি বলেন, মার্কা দেখে নয়, যারা দালালি করবে না তাদের ভোট দিন।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় মহানগরী ও স্থানীয় নেতারা।

এমডিএএ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।