নির্বাচনি ইশতেহার
প্রাথমিক-মাধ্যমিকের সব শিক্ষককে ট্যাব দেবে বিএনপি
দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে ট্যাবলেট কম্পিউটার (ট্যাব) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। দলটি ক্ষমতায় আসলে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।
ইশতেহারে এ কর্মসূচির নাম দেওয় হয়েছে, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’। বিস্তারিত অংশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের শিক্ষকদের আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা অর্জনসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারওগাঁওয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ইশতেহার ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারে ‘শিক্ষা ও মানবসম্পদ’ অংশে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামূলক ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টারি ও অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে কারিকুলাম ও নৈতিক শিক্ষার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন (পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট), পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা হবে।
দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করা হবে।
আত্মকর্মসংস্থান এবং দেশ ও বহির্বিশ্বে চাকরির সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।
সিলেবাস এমনভাবে সাজানো হবে যেন একটা পরিবার যদি তার সন্তানকে এসএসসি কিংবা ইন্টারমিডিয়েটের বেশি না পড়াতে পারে, তাহলে সেই শিক্ষা দ্বারাই যেন সে নিজের জন্য কর্মসংস্থান করে নিতে পারে।
মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ইত্যাদি খেলা এবং সংগীত, নাটক ইত্যাদি সাংস্কৃতিক বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী সবার জন্য পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ এবং সারাদেশে পর্যায়ক্রমে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল)’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
গণিত, বিজ্ঞান, তৃতীয় ভাষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, আইটি ও কারিগরিসহ সব বিষয়ে মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী করে গড়ে তুলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বিদ্যমান সব ক্যাডার ও নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।
শিক্ষার সব স্তরে জোর প্রদান করা হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে বেশি। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হবে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
এএএইচ/এমএমকে