মোদির সফরে কংগ্রেস-আওয়ামী লীগ সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের নাড়ির সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক ঐ গোলটেবিল আলোচনা সভায় ড. এমাজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ এর পর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের যে নাড়ির সম্পর্ক ছিল মোদির বাংলাদেশ সফরের ফলে তা ছিন্ন হয়েছে কিনা তা জানি না। তবে এই সম্পর্ক আর শক্তিশালী নেই।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যে ২২ চুক্তি হয়েছে এ সম্পর্কে সরকারের পক্ষে যারা কথা বলবেন বিশ্লেষণ করবেন তাদের উপরই নির্ভর করবে এটি সফল হবে কিনা। আর কমিশন নেয়া ব্যক্তিরা যদি এই আলোচনার অংশগ্রহণ করেন তাহলে ফল পাওয়া যাবে না।
আমরা দুই দিক থেকেই শুন্য অবস্থায় রয়েছি উল্ল্যেখ করে এমাজ উদ্দিন বলেন, প্রত্যাশা ছিল নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণের চিন্তা চেতনা থেকে কিছু কথা বলবেন। কিন্তু তিনি সীমান্তে হত্যা নিয়ে চুপচাপ থেকেছেন।এছাড়া তিস্তাকে প্রাণবন্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোন কথা বলা হয়নি এবং মোদিও কিছু বলেননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার হাতেম তাই সেজে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ভারতকে দিয়ে দিচ্ছে। অপরদিকে, মোদি বলেছেন, চার দেশ মিলে আমরা বাড়ির মতো যাতায়াত করবো। সবাই সব যায়গায় যেতে পারবেন কিন্তু আমার কথা হচ্ছে অন্যের উঠানে কি আমাদের পা দেয়ার মতো সুযোগ থাকবে?
১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্ধিরা চুক্তির কথা উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ভারতেকে বাংলাদেশের এক অংশ দিয়ে দিয়েছে। সীমান্তে যে তিন বিঘা করিডোর রয়েছে এ করিডোর সম্পর্কে কোন কথা হয়নি। বলা হচ্ছে বাংলাদেশকে এই তিন বিঘা ফিরিয়ে দেয়া হবে কিন্তু এটা কতটা বাস্তবে রুপ নেবে সেটা এখন দেখার বিষয়।এর ফলে মুজিব-ইন্ধিরা চুক্তি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার যদি জনপ্রতিনিধিত্ব সরকার হতেন তাহলে ভারতকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছেড়ে দিতেন না। কারণ এটা আমাদের জায়গা। ভারতের নয়।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর অব. রুহুল আলম চৌধুরী, সহস্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশারফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রমূখ।
এমএম/এসকেডি/এমএস