কার্যকর আন্দোলন ছাড়া খালেদার মুক্তি সম্ভব নয় : মোশাররফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

অনেক নেতাদের মতো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চাপিয়ে দেয়া নেতা না উল্লেখ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, কার্যকর আন্দোলন ছাড়া তার মুক্তি সম্ভব নয়।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে শত নাগরিক কমিটির আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদারেরর লেখা ‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইটির প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন

খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপিতে আসার সময় তিনি প্রথমে সদস্য হলেন, এরপর হলেন ভাইস চেয়ারম্যান, তার পরে চেয়ারম্যান বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর তিনি চেয়ারম্যান হলেন অর্থাৎ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক নেতাদের মতো চাপিয়ে দেয়া নেতা নন। তিনি তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই আওয়ামী লীগ অতীতেও বাকশালের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২৯ তারিখ (২৯ ডিসেম্বর) ডাকাতি করে সেটা (গণতন্ত্র) আরেকবার হত্যা করেছে।’

মোশারফ বলেন, ‘এখন জনগণের প্রতিনিধি যেখানে যে সকল আসনে বসার কথা সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। সেখানে আছে মনোনীত প্রতিনিধিরা-এটা অসাংবিধানিক, অনৈতিক। আজকে একটা অস্বাভাবিক অবস্থায় দেশ চলছে। এই অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা কারাগারে থাকা অবস্থায় গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। সেই জন্য অনেকে অনেক কথা বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর আন্দোলন ছাড়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।’

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

এ ছাড়া বইটির দুই লেখক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ ও কবি আব্দুল হাই শিকদার এবং ২০-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এসআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :