মৃত্যু যখন আমাদের চারপাশে ছায়া হয়ে ঘোরে
কদিন ধরে মনটা প্রচণ্ড ভারাক্রান্ত। শরীর প্রবাসে থাকলেও চোখ আটকে আছে দেশের সংবাদের পাতায়। একেকটি দুর্ঘটনার খবর পড়ার পর মনে হচ্ছে, আমি নিজেও যেন সেই ‘সৌহার্দ্য’ বাসে ছিলাম। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে সব নিয়ম মেনে চলতাম—বাস ফেরিতে ওঠার আগেই নেমে যেতাম। কিন্তু সেই নিয়ম সবার জন্য বাধ্যতামূলক না হওয়ায় কত প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে।
ফেরি পারাপারের সময় ‘বাস থেকে সব যাত্রীকে নামতেই হবে’—এই নিয়মটি আমাদের দেশে এখনো কাগুজে বাঘ হয়ে আছে। নারী যাত্রীরা কোলের শিশু নিয়ে বাসের ভেতরেই বসে থাকেন। যখন কোনো বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদী বা জলে পড়ে যাওয়ার ভিডিও দেখি, তখন মনে হয় আমি নিজেই সেই জলে ডুবে যাচ্ছি। আমার শ্বাসনালী যেন বন্ধ হয়ে আসছে, হৃদয়ে এক তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করি। সেই মুহূর্তের আতঙ্ক কেবল কল্পনায় নয়, এক নিষ্ঠুর বাস্তব হয়ে মনের ভেতর দানা বেঁধেছে।
নিরাপত্তার এই অভাব কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ নয়। যখনই টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো বাড়িঘর, ব্যবসা কেন্দ্র কিংবা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখি, আমার নাকে যেন পোড়া ধোঁয়ার গন্ধ এসে লাগে। মনে হয় আমার সারা শরীর আগুনে জ্বলছে। এই দগ্ধ অনুভূতি প্রবাসে বসে থাকা প্রতিটি বাংলাদেশির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
বাংলাদেশে মানুষের জীবন আজ এক চরম ঝুঁকির খেলায় পরিণত হয়েছে। কোথাও অব্যবস্থাপনা, কোথাও ব্যক্তিগত লোভ, আবার কোথাও চরম অবহেলা—সব মিলিয়ে মৃত্যু যেন আমাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করছে। বিশেষ করে এবারের ঈদ এবং ঈদ-পরবর্তী সময়ে পরিবহন দুর্ঘটনার যে মিছিল আমরা দেখলাম, তা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।
প্রবাসে বসে দেশের এসব দুঃসংবাদ শুনতে শুনতে মনটা বড় অস্থির হয়ে ওঠে। চোখে জল আর মনে একরাশ কষ্ট নিয়ে দিন কাটে। আমাদের কি কোনো নিরাপত্তা নেই? মানুষের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই? এই প্রশ্নগুলোই আজ বারবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা কি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ পাব না, যেখানে বাড়ি ফেরার পথে কারো জীবনের ঝুঁকি থাকবে না?
এমআরএম