মালয়েশিয়ায় সাড়ে চার মাসে আটক ১৬ হাজারের বেশি অভিবাসী
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত ৪ হাজার ৭৮৫টি অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ১৬ হাজার ৬৮১ জন অভিবাসীকে আটক করেছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এ সময়ে জেআইএম আরও কঠোর ও আগ্রাসীভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে মোট ৬৯ হাজার ৪০৬ জনকে তল্লাশি ও যাচাই করা হয়।
তিনি বলেন, এই তথ্য প্রমাণ করে যে, নিয়ম লঙ্ঘন, অপব্যবহার কিংবা ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের বিষয়ে জেআইএম কোনো ধরনের আপস করে না।
মঙ্গলবার (১৯ মে) পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত জেআইএমের ২০২৫ সালের অ্যানুগেরাহ পারখিদমাতান চেমারলাং (এপিসি) পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।
দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, বর্তমানে ২০ হাজার ৫৭৫ জন আটক ব্যক্তি স্থায়ী ইমিগ্রেশন ডিপোতে এবং আরও ১ হাজার ৪৭০ জন অস্থায়ী ডিপোতে রাখা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র যাচাই ও আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ১৪ মে পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৭০০ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেরত পাঠানো হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ৭ হাজার ৯৩৬ জন নাগরিককে। এরপর রয়েছে মিয়ানমারের ৪ হাজার ৫ জন, বাংলাদেশের ২ হাজার ৪৫৩ জন, ফিলিপাইনের ১ হাজার ৮২৫ জন এবং থাইল্যান্ডের ১ হাজার ৮ জন নাগরিক।
প্রবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি ‘প্রোগ্রাম রিপাট্রিয়াসি মাইগ্রান ২.০ (পিআরএম ২.০)’ প্রসঙ্গে জাকারিয়া বলেন, কর্মসূচিটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এতে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী নিবন্ধন করেছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছে এবং সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জরিমানাও আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।
জেআইএমের অভিযানে আটক কয়েকজন অভিবাসী/ছবি: সংগৃহীত
২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে চলতি বছরের ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ১১২টি দেশের মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪৩ জন অবৈধ অভিবাসী নিবন্ধন করেছেন। এ থেকে সরকার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৪০ রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করেছে।
সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার ১ লাখ ১১ হাজার ৬৬০ জন নাগরিক। এরপর রয়েছে বাংলাদেশের ৪৯ হাজার ৪৮১ জন এবং মিয়ানমারের ৩৩ হাজার ৮৫৮ জন নাগরিক।
এদিকে, জেআইএমের ২০২৫ সালের এপিসি পুরস্কারের জন্য সারাদেশ থেকে ১ হাজার ২১২ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়েছে। গত বছরে দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
জাকারিয়া বলেন, যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে উৎকর্ষ দেখিয়েছেন, তাদের উৎসাহিত করতেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, এটি তাদের আরও উন্নত ও বিশ্বমানের সেবা দিতে অনুপ্রাণিত করবে।
এমএমকে