ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নেই রোড মার্কিং, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার শঙ্কা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজারো বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপে ব্যস্ত থাকে এই মহাসড়ক। দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থা কাটিয়ে মানিকগঞ্জ অংশের বড় একটি অংশ সম্প্রতি সংস্কার করা হলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দীর্ঘ সড়কজুড়ে নেই কোনো রোড মার্কিং। ফলে রাতে বা বৃষ্টিতে লেন শনাক্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চালকদের। এতে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচলের জন্য নির্ধারিত লেন ও রোড মার্কিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে রোড মার্কিং না থাকায় চালকেরা ইচ্ছামতো লেন পরিবর্তন ও ওভারটেকিং করছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের বারোবাড়িয়া থেকে আরিচা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা হয়ে পড়ে উঁচুনিচু ও খানাখন্দে ভরা। এতে অন্তত ১০টি পয়েন্ট দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয় এবং যান চলাচলে নেমে আসে চরম ভোগান্তি।
বর্তমানে চলমান সংস্কার প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যদিও প্রকল্প অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে যেসব অংশে নতুন করে কার্পেটিং করা হয়েছে, সেসব এলাকাতেও এখনো বসেনি সাদা-হলুদ লেনচিহ্ন। ফলে নতুন সড়কেও তৈরি হয়েছে অনিরাপদ পরিস্থিতি।
সম্প্রতি মানিকগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকাতেই সাদা বা হলুদ লেন মার্কিং নেই। কোথাও কোথাও পুরোনো দাগের ক্ষীণ চিহ্ন দেখা গেলেও তা কার্যত অকার্যকর। মাত্র তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকায় কিছু মার্কিং রয়েছে। দিনের বেলায় চালকেরা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে যানবাহন চালালেও রাত নামলেই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির তীব্র হেডলাইটে লেন বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তরা, বানিয়াজুরী, জোকা, পুখুরিয়া ও বরংগাইল এলাকায় ওভারটেকিংয়ের সময় প্রায়ই তৈরি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। অনেক চালক বাধ্য হয়ে রাস্তার মাঝামাঝি কিংবা প্রান্ত ঘেঁষে গাড়ি চালাচ্ছেন।
পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহনের চালক আরমান বলেন, দিনে কোনোভাবে গাড়ি চালানো যায়। কিন্তু রাতে খুব সমস্যা হয়। সামনে থেকে গাড়ি এলে হেডলাইটের আলোয় চোখ ঝলসে যায়। তখন রাস্তার মাঝখান কোথায়, সেটাই বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
ট্রাকচালক আকবর আলী বলেন, ভারী যান নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোড মার্কিং খুব জরুরি। সামান্য ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে কুয়াশার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
মোটরসাইকেল চালক ইলিয়াস হোসেন বলেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকি আমরা। বড় গাড়িগুলো হঠাৎ করেই ওভারটেক করে। রাস্তায় দাগ না থাকায় কোন লেন নিরাপদ, সেটি বোঝা যায় না।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদের জিলানী বলেন, সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ডিবিএসটি পদ্ধতিতে কাজ শেষ হওয়ার পর সড়ক পুরোপুরি মসৃণ হলে রোড মার্কিং করা হবে। আবহাওয়ার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই পুরো কাজ সম্পন্ন করা হবে।
মো. সজল আলী/এনএইচআর/এমএস