ইসলামে কৃত্রিমভাবে সন্তান নেওয়ার বিধান কী?
আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও নাতিদের সৃষ্টি করেছেন আর তিনি তোমারেদকে পবিত্র রিজিক দান করেছেন। তারা কি বাতিলে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করে? (সুরা নাহল: ১৬)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। (সুরা শুরা: ৪৯, ৫০)
নবী (সা.) বলেছেন, তোমরা বিয়ে কর স্নেহশীল ও অধিক সন্তান প্রসবকারী নারীদের। কেয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করবো। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ)
মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য, পৃথিবী আবাদ রাখার জন্যই মানুষের প্রজনন বা সন্তান জন্মদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেক সন্তানকে কোরআন-হাদিসে আল্লাহর বড় নেয়ামত বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী অথবা উভয়ই বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত হন, অথবা কোনো সমস্যার কারণে গর্ভধারণে বিলম্ব হয়।
আধুনিক বিজ্ঞান এই সমস্যা সমাধানের জন্য কৃত্রিম প্রজননের বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। কৃত্রিম প্রজননের সব পদ্ধতি ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ নয়, আবার সব পদ্ধতি জায়েজও নয়। এখানে আমরা সংক্ষেপে আলোচনা করবো, শরিয়তে কৃত্রিম প্রজননের কোন পদ্ধতিগুলো জায়েজ, কোন পদ্ধতিগুলো নাজায়েজ।
কৃত্রিম প্রজননের কোন পদ্ধতিগুলো জায়েজ, কোন পদ্ধতিগুলো নাজায়েজ?
কৃত্রিম প্রজননের বিভিন্ন রয়েছে। তবে সেগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: ইসলামের নির্ধারিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী জায়েজ অথবা ইসলামি শরিয়তের মূলনীতির বিরোধী হওয়ায় নাজায়েজ।
জায়েজ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- স্বামীর কাছ থেকে শুক্রাণুর নমুনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ নিষেকের মাধ্যমে তার স্ত্রীর জরায়ুতে প্রবেশ করানো।
- দুটি নমুনা নেওয়া; একটি স্বামীর শুক্রাণু থেকে এবং অপরটি স্ত্রীর ডিম্বাণু থেকে। সেগুলো টেস্টটিউবে বাহ্যিকভাবে নিষিক্ত করা। অতঃপর ভ্রূণটি ডিম্বাণুর মালিক স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা।
নাজায়েজ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কোনো নির্দিষ্ট পুরুষের শুক্রাণু, যিনি ডাক্তারের কাছে পরিচিত কিন্তু দম্পতির কাছে অপরিচিত, কোনো নারীর জরায়ুতে প্রবেশ করানো। এটি নারী ও তার স্বামীর সম্মতি নেওয়ার পরে করা হয়, তবে শর্ত থাকে যে দাতা জানবেন না তার শুক্রাণু কাকে দেওয়া হচ্ছে।
- অনেক পুরুষের শুক্রাণু সংগ্রহ করে স্পার্ম ব্যাংকে জমা করা। অতঃপর সেটি গর্ভধারণ প্রত্যাশী নারীকে নিষিক্ত করতে ব্যবহার করা।
- কোনো পুরুষের শুক্রাণু ও তার স্ত্রী নয় এমন কোনো নারীর ডিম্বাণু দিয়ে টেস্টটিউবে বাহ্যিক নিষেক করা — এই পুরুষ ও নারীকে বলা হয় ‘দাতা’। অতঃপর সেই ভ্রূণটি অন্য কোনো বিবাহিত নারীর গর্ভে স্থাপন করা যিনি সন্তান জন্ম দিতে চান। এটি সেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে স্ত্রীর ডিম্বাশয়ের সমস্যার কারণে বন্ধ্যাত্ব রয়েছে কিন্তু জরায়ু সুস্থ, এবং সেইসাথে স্বামী বন্ধ্যা হওয়ার ক্ষেত্রেও।
জায়েজ কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে সতর্কতা
ফকিহগণ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন, যেমন:
- একজনের ডিম্বাণু/শুক্রাণু যেন আরেকজনের ডিম্বাণু/শুক্রাণুর সাথে মিশে না যায় সে বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা।
- স্বামী অথবা তার বিশ্বস্ত কেউ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহ থেকে শুরু করে নারীর জরায়ুতে প্রবেশ করানো পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় উপস্থিত থাকা।
- নিষেক প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করা, ইত্যাদি।
যদি স্বাভাবিকভাবে সন্তান না হয়, কৃত্রিম প্রজননের জায়েজ পদ্ধতি অনুসরণ করেও সন্তান জন্মদান সম্ভব না হয়, তাহলে একজন মুমিনের কর্তব্য নাজায়েজ পদ্ধতি গ্রহণ না করে এটাকে আল্লাহ তাআলার নির্ধারণ হিসেবে মেনে নেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। (সুরা শুরা: ৪৯, ৫০)
সূত্র: ইসলাম ওয়েব
ওএফএফ