শূকরের চামড়ার জুতা ব্যবহার করা কি জায়েজ?

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ০৩ মে ২০২৬
শূকরের চামড়ার জুতা ব্যবহার করা কি জায়েজ? ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রশ্ন: শূকরের চামড়ার দিয়ে বানানো জুতা ব্যবহার করা কি জায়েজ?

উত্তর: ইসলামে শূকরের মাংস খাওয়া যেমন হারাম, শূকরের চামড়া দিয়ে তৈরি করা জুতা, বেল্ট, ব্যাগ বা যে কোনো সামগ্রী ব্যবহার করা জায়েজ নয়। শূকরের দেহের যে কোনো অংশ যে কোনো প্রক্রিয়াতেই ব্যবহার করা হারাম।

পবিত্র কোরআনে একাধিক আয়াতে শূকরকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

সুরা  বাকারায় আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয় তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যা গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা হয়েছে। সুতরাং যে বাধ্য হবে, অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে, তাহলে তার কোন পাপ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা বাকারা: ১৭৩)

সুরা মায়েদায় আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের জন্য মৃত জীব, রক্ত, শূকরের গোশত, আল্লাহ ছাড়া অপরের নামে উৎসর্গীকৃত পশু, কন্ঠরোধে মারা পশু, আঘাত লেগে মরে যাওয়া পশু, পতনের ফলে মৃত পশু, শৃংগাঘাতে মৃত পশু এবং হিংস্র জন্তুতে খাওয়া পশু হারাম করা হয়েছে; তবে যা তোমরা জবাই দ্বারা পবিত্র করেছ তা হালাল। আর যে সমস্ত পশুকে পূজার বেদীর ওপর বলি দেয়া হয়েছে তা এবং জুয়ার তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করাও তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। (সুরা মায়েদা: ৩)

সুরা আনআমে আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি বলো ওহির মাধ্যমে আমার কাছে যে বিধান পাঠানো হয়েছে তাতে কোন আহারকারীর জন্য কোনো বস্তু হারাম করা হয়েছে এমন কিছু আমি পাইনি; তবে মৃত প্রাণী, বা প্রবাহিত রক্ত, অথবা শূকরের গোশত — কারণ এটি অবশ্যই অপবিত্র — অথবা যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে সেটা ছাড়া। কিন্তু যদি কেউ স্বাদ আস্বাদন ও সীমা লংঘনের উদ্দেশ্য ছাড়া নিরুপায় হয়ে পড়ে (তার জন্য ওটাও খাওয়া বৈধ)। কেননা আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহশীল। (সুরা আনআম: ১৪৫)

সুরা নাহলে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি শুধুমাত্র মৃত, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যা জবাইয়ের সময় আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের নাম নেয়া হয়েছে তা-ই তোমাদের জন্য অবৈধ করেছেন, তবে যে নিরুপায় হয়ে, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন ব্যতীত, (প্রয়োজন মোতাবেক গ্রহণ করবে) তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সুরা নাহল: ১১৫)

এই সুস্পষ্ট আয়াতগুলোর আলোকে ফকিহগণ বলেছেন, শূকর একটি নাপাক প্রাণী। শুধু তার গোশত নয়, বরং তার দেহের প্রতিটি অংশ — চামড়া, হাড়, চর্বি সবকিছুই অপবিত্র এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সাধারণত অন্যান্য হারাম প্রাণীর চামড়া দাবাগত বা ট্যানিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পবিত্র ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে যায়। কিন্তু শূকরের চামড়া ট্যানিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমেও পবিত্র হয় না যেহেতু শূকর মূলগতভাবেই নাপাক, নাপাকি তার সত্তার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এটা ইসলামি ফিকহের সর্বসম্মত মত।

সুতরাং শূকরের চামড়াজাত যে কোনো পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।