বনি ইসরাইলের তাওবা কেমন ছিল


প্রকাশিত: ০৫:৪১ এএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

মুসা সামেরি কর্তৃক গো-বছুরের প্রতিমূর্তির পূজাকে কেন্দ্র করে আল্লাহ পক্ষ থেকে তাওবার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তাওবা কেমন হবে। কিরূপে তাওবা করতে হবে। যা এখানে তুলে ধরা হলো-

বনি ইসরাইলের তাওবার ধরন-
কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গো-বাছুরকে উপাস্য রূপে গ্রহণ করে। কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট। তারপর তোমাদের প্রতি (ক্ষমা করা হলো) লক্ষ্য করা হলো। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ৫৪)

আয়াতের তাফসিরে তাওবার ধরন হচ্ছে- জীবন বিসর্জন দেয়ার মাধ্যমে নিজেদেরকে পাপ থেকে মুক্ত করা। অর্থাৎ বনি ইসরাইলিরা গো-বাছুর পূজায় তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে
প্রথম দল- নিজেরা পূজা করেনি এবং অন্যকে পূজা করতে বিরত রাখে।
দ্বিতীয় দল- নিজেরা পূজা করেনি এবং কাউকে পূজা থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেনি।
তৃতীয় দল- যারা পূজা করেছে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে। এখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দল অপরাধী। যদিও দ্বিতীয় দল তৃতীয় দল অপেক্ষা কম অপরাধী।

তাই তাওবার ফয়সালায় আল্লাত তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা হলো-
১. প্রত্যেকেই নিজেকে নিজে হত্যা করা।
২. দ্বিতীয় দল কর্তৃক তৃতীয় দলকে হত্যা করা।

সুতরাং এ আয়াত থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত যে, আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদির প্রতি কত ইহসান তথা দয়া করেছেন। তাওবার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয়ার বিধান রহিত করেছেন। আল্লাহর কাছে অন্যায় না করার একান্ত ইচ্ছা ব্যক্ত করে তাওবা করলে আল্লাহ তাওবা কবুল করে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওবার মাধ্যমে তার নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]