‘ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টটাই ছিল, তখন নাহিদ রানাকে বোলিংয়ে আনা’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ১২ মে ২০২৬

এক পরিপূর্ণ টিম পারফরম্যান্সের দলিল হয়েই থাকবে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্ট। ব্যাটারদের কেউ কেউ অবদান রেখেছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত উভয় ইনিংসে শতরান করে তৃতীয় বারের মতো এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির দুর্লভ কৃতিত্বের অধিকারী হতে না পারলেও ঠিকই প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৮৭ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিকে মুমিনুল হকও উভয় ইনিংসে ফিফটি হাঁকিয়ে দলকে সহায়তা করেছেন। আর বল হাতে প্রথম ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজ ৫ উইকেট দখল করে পাকিস্তানিদের হাত থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতের মুঠোয় এনে দেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে নাহিদ রানা ৫ উইকেট দখল করে পাকিস্তানিদের পরাজয় নিশ্চিত করেন। সব মিলিয়ে ব্যাটার ও বোলারদের এক দারুণ পারফরম্যান্স।

এই টেস্টের সঙ্গে ২ বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া টেস্টের চালচিত্রের অনেক মিল। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ১০ উইকেটে। সে ম্যাচে নাহিদ রানার তেমন ভূমিকা ছিল না। এ দ্রুতগতির বোলার ২ ইনিংসে (প্রথম ইনিংসে ১৯ ওভারে ০/১০৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ ওভারে ১/৩৯) উইকেট পেয়েছিলেন ১টি।

কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে ৬ উইকেটের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন নাহিদ রানা। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ১৫ ওভার বল করে ৫৮ রানে এক উইকেট দখল করেছিলেন নাহিদ রানা।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে ৪ উইকেটের পতন ঘটিয়ে পাকিস্তানকে ১৭২ রানে বেঁধে জয়ের মঞ্চ সাজিয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ। তার প্রচণ্ড গতির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন শান মাসুদ, বাবর আজম, সৌদ শাকিল ও আবরার আহমেদ।

মিরপুর টেস্টেও প্রথম ইনিংসে উইকেট পাননি নাহিদ রানা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ৯.৫ ওভার বল করে ৪০ রানে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের অর্ধেকের পতন ঘটিয়ে ১০৪ রানের জয়ের নায়ক বনে গেছেন স্পিডস্টার নাহিদ রানা।

মঙ্গলবার নাহিদ রানার দুর্দান্ত রিভার্স সুইং ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়েছেন এ টেস্টে পাকিস্তানের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। এ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার একা নন, আজ নাহিদ রানার বারুদে বোলিং তোপে পুড়ে ছারখার হয়েছেন আরও ৪ পাকিস্তানি- শান মাসুদ, সৌদ শাকিল, নোমান আলী ও শাহিন শাহ আফ্রিদি।

শেষ ঘণ্টায় মাত্র ১১ রানে শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটেছে পাকিস্তানের। তার ৪টিই জমা পড়ে নাহিদ রানার পকেটে।

এমন এক বিধ্বংসী বোলারকে ঠিক কখন ব্যবহার করতে হবে, কোন সময় তাকে বোলিংয়ে আনলে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি- তা খুব ভালোভাবেই ঠাওর করে উঠেছিলেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

তার মুখ থেকেই শোনা যাক কী ছিল সে পরিকল্পনা? নাহিদ রানাকে তখন বোলিংয়ে এনে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ও টেইল মুড়িয়ে দেওয়ার গল্পটা কী ছিল?

তা জানাতে গিয়ে টাইগার ক্যাপ্টেন যা বলেন, তার সারমর্ম হলো- শান্তর শেষ বারুদের স্পেলের আগে তাইজুল আর তাসকিনও দুটি ভাইটাল ব্রেকথ্রু এনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের পর নাহিদ রানাকে বোলিংয়ে আনলে পাকিস্তানিরা পড়ন্ত বিকেলে নাহিদ রানার এক্সপ্রেস বোলিংয়ের সামনে বিব্রত বোধ করতে পারে এবং অধিনায়কের সে চিন্তা সফলও হয়েছে।

শান্তর ব্যাখ্যা, ‘এটা কন্ডিশন এবং সিচুয়েশনের ওপর ডিপেন্ড করে। এখানে স্পিনারদেরও ক্রেডিট দিতে হবে, কারণ তারা এক সাইড হোল্ড করে রাখে। যখন স্পিনারের পর হঠাৎ করে জোরে পেস বোলার আসে, তখন ব্যাটসম্যানদের জন্য অ্যাডজাস্ট করা কঠিন হয়। ওই পরিবেশটা তৈরি করা ইম্পর্ট্যান্ট এবং ওটা দেখেই আমি রানাকে ইউজ করার চেষ্টা করি।’

এআরবি/আইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।