নাহিদ রানার রিভার্স সুইংয়ে সারপ্রাইজড হয়েছেন শান্ত!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:১৬ পিএম, ১২ মে ২০২৬

এ ম্যাচে দুই দলের কয়েকজন বোলারই ভালো বোলিং করেছেন। পাকিস্তানের ফাস্টবোলার মোহাম্মদ আব্বাসও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশের অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ প্রথম ইনিংসে আর আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের মিডল ও লেট অর্ডারের বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছেন নাহিদ রানা। নিয়েছেন ৫ উইকেট।

তাদের তিনজনেরই বেশ কটি দৃষ্টিনন্দন ডেলিভারির কথা দর্শকদের মনে ধরেছে; কিন্তু আজ পাকিস্তানের অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করার ডেলিভারিটি দর্শকদের মনে বিশেষভাবে দাগ কেটে আছে। হয়তো থাকবে বহুকাল।

অফস্ট্যাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকা সেই ডেলিভারিটি যে তার উইকেট ভেঙে দেবে, তা ভাবেননি খোদ ব্যাটার রিজওয়ান। পাকিস্তানের হয়ে ৪২ টেস্ট, ১০৩ ওয়ানডে আর ১০২ টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ রিজওয়ানের ধারণা ছিল বল ভেতরে আসলেও উইকেটের বাইরে থাকবে।

কিন্তু অফস্ট্যাম্পের ফুটখানেক দূরে পিচ পড়া ওই ডেলিভারি যে ভেতরে ঢুকে উইকেট উড়িয়ে দেবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি রিজওয়ান। তাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। বল তাকে অবাক করে ভেতরে ঢুকে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়।

রিজওয়ান অবাক বিস্ময়ে তা দেখে মাথা নিচু করে সাজঘরের পথে পা বাড়ান। শুধু বোল্ড হওয়া রিজওয়ান কেন, স্লিপে দাঁড়িয়ে নাহিদ রানার রিভার্স সুইংয়ে রিজওয়ানকে ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হতে দেখে বিস্মিত হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও।

খেলা শেষে প্রশ্ন উঠল সেই ডেলিভারি নিয়ে। রানার বল ওভাবে ভেতরে আসবে, সেটা কি সারপ্রাইজিং ছিল?

টাইগার ক্যাপ্টেনের জবাব, ‘এটা আমি আর লিটনও এক্সপেক্ট করিনি। তবে ভালো লাগাও আছে। এটা একটা পজিটিভ দিক যে ও রিভার্স করাতে শিখছে।’

আগের দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে কিছু কথা হয়েছিল। ঠিক সমালোচনা না হলেও মুমিনুল হকের স্লথ ব্যাটিং নিয়ে মুখ খুলেছিলেন কেউ কেউ।

কারও কারও মত, বাংলাদেশ যদি আগেরদিন সোমবার শুরু থেকে আরও একটু রান তোলায় মনোযোগী হতো, তাহলে আজ আরও আগেই ডিক্লেয়ার করে পাকিস্তানিদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেওয়া যেত।

আজ অবশ্য অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মোটামুটি রান তোলায় মনোযোগী ছিলেন। তাই শেষ দিন সকালের সেশনে বাংলাদেশ ৮৮ রান তুলেছে ঠিক ২০ ওভার ব্যাটিং করে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, গতকাল চতুর্থ দিন বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওভারপিছু রান তোলার গতি ছিল তুলনামূলক অনেক কম; ওভারপিছু ৩ করে। গতকাল বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল ৫০.৩ ওভারে। আর সেখানে আজ প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ওভারপিছু ৪.৪ রান করে তুলেছেন।

খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা উঠেছে। তবে কি গতকাল বাংলাদেশের ব্যাটিং প্রয়োজনের তুলনায় স্লথ ছিল? কিন্তু টাইগার ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য তা মানতে রাজি নন। তার মনে হয় না মুমিনুল ও অন্যরা স্লো খেলেছেন।

বরং শান্তর অনুভব, আসলে খেলার ধরন, রান করার গতি, ছন্দটা নির্ভর করে ম্যাচ কন্ডিশন, উইকেট ও প্রতিপক্ষ বোলারদের বোলিংয়ের গতি-প্রকৃতির ওপর।

বাংলাদেশ অধিনায়কের মনে হয়, গতকাল একটু রয়ে-সয়ে খেলার কারণেই আজ হাতে বেশি উইকেট ছিল। এবং তিনি নিজেসহ বাকিরা একটু ফ্রি হয়ে হাত খুলে খেলতে পেরেছেন। এবং আগের দিনের তুলনায় দ্রুত গতিতে রান তোলা সম্ভব হয়েছে।

তাই শান্তর ব্যাখ্যা, ‘উইকেট এবং প্রতিপক্ষের বোলিং অ্যাটাক বোঝাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল চতুর্থ দিন আমাদের রানও করতে হতো, আবার উইকেটও ধরে রাখতে হতো। কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষের বোলিং শক্তি অনুযায়ী আমাদের যে ব্যাটিং করার দরকার ছিল, আমরা ঠিক ওভাবেই করেছি। আজকের ব্যাটিংটা গতকালের কারণেই একটু ফাস্ট হতে পেরেছে।’

এআরবি/আইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।